২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত তিন সিটির নির্বাচনে ব্যবসায়ী, বেশি উপার্জনকারী ও বেশি করদাতা প্রার্থীদেরকেই বেছে নিয়েছেন ভোটাররা। তবে চট্টগ্রামের ভোটাররা বেছে নিয়েছেন শিক্ষিত প্রার্থীদের।
সোমবার বেলা ১২টায় সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নেতারা।
সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল 'ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কেমন জনপ্রতিনিধি পেলাম'।
সুজন সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার ও সংগঠনের সহ-সম্পাদক জাকির হোসেন এতে উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুর্নগঠন দাবি করে সুজন নেতারা বলেন, বিগত সিটি নির্বাচন বিতর্কিত এবং এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম বলেন, এ বিতর্কিত নির্বাচনের সুদূরপ্রসারী একটি প্রভাব পড়বে। যেসব দেশে গণতন্ত্র থাকে না, সেসব দেশে উগ্রবাদের বিস্তার ঘটে। আমাদের দেশে আমরা তা চাই না।
তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠন প্রয়োজন, আগেও আমরা তা বলেছি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে ১০টি সুপারিশ ও পরামর্শ তুলে ধরেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে, কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, আইনে সার্চ কমিটির বিধান রাখা, ভোটগ্রহণের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, হলফনামা ফর্মে কিছু পরিবর্তন আনা, প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য যাচাই ও মিথ্যা তথ্যদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া, প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় কমাতে কমিশনের পক্ষ থেকেই পোস্টার-তথ্যচিত্র প্রকাশ করে প্রজেকশন মিটিং আয়োজন প্রভৃতি।
শুরুতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
বক্তব্যে তিনি নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, যেভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে আশাবাদীরা হতাশ হয়েছেন।
এরপর ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (ইডব্লিউজি), ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), আইন ও সালিশ কেন্দ্র, এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন, জাতিসংঘ, অধিকার (সংগঠন) ও সংবাদপত্র থেকে নেওয়া তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে সম্মেলনে নিজেদের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন সুজনের পক্ষে।
বিগত সিটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে না বলে উল্লেখ করে দিলীপ বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি ও নির্বাচন কমিশনের সংস্কারের বিষয়ে এখনই সোচ্চার হতে হবে।
শিক্ষা:
বিশ্লেষণ-প্রতিবেদন থেকে তিনি জানান, তিন সিটিতে মেয়রপ্রার্থীরা ছিলেন উচ্চশিক্ষিত। ১৩৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৫৯ জনের শিক্ষা এসএসসির নিচে। আর চট্টগ্রামের ভোটাররা স্বল্পশিক্ষিতদের তুলনায় উচ্চশিক্ষিতদের বেছে নিয়েছেন।
পেশা:
পেশার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য লক্ষণীয়। এ প্রবণতা বাড়ছে। এবার সিটি নির্বাচনে আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে।
মামলা:
দিলীপ জানান, ফৌজদারী মামলার দিক থেকে বিচার করলে এবারের সিটি নির্বাচনে মামলা সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির সংখ্যা আগের তুলনায় কম। প্রতিদ্বন্দ্বিতার তুলনায় মামলা সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার হারও কম।
আয়:
আয়ের দিক বিবেচনায় দেখা গেছে, স্বল্প আয়ের প্রার্থীদের চেয়ে বেশি আয়ের প্রার্থীরা বেশি নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া যেসব প্রার্থী বেশি কর দিয়েছেন, তাদেরই নির্বাচিত হওয়ার হার বেশি।
বক্তব্যে বলা হয়, সুজন মনে করে, বিধ্বস্ত একটি নির্বাচন ব্যবস্থাকে পরিশুদ্ধ করে সঠিক পথে আনা, নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনী আইনের সংস্কার ছিল জাতিগতভাবে আমাদের বড় অর্জন।
নির্বাচন কমিশনের দুর্বলতা, নিরপেক্ষতার অভাব, নির্বাচনী আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগে নমনীয়তা এবং কোথাও কোথাও পক্ষপাতদুষ্ট সেই অর্জনকে আমরা বিসর্জন দিতে বসেছি, যা আমাদের কাম্য ছিল না। এখনই যদি আমরা যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তবে আমাদের নির্বাচন পদ্ধতি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
সভাপতি বদিউল আলম বলেন, এসব তথ্য প্রার্থীদেরই দেওয়া তথ্য থেকে সন্নিবেশিত। অনেক প্রার্থী নিজেদের অনেক তথ্য গোপন করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে জাকির হোসেন বলেন, এমন নির্বাচনের জন্য জনগণ দায়ী নয়, রাষ্ট্রের কোনো সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান দায়ী। দেরি হচ্ছে, কিন্তু এক সময় পরিস্থিতি ভালো হবে বলে আমরা আশা করি।