জাতীয় কবি নজরুলের জন্ম জয়ন্তী উদযাপন

বাংলাদেশের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি, গানের বুলবুল, প্রেমের কবি, দ্রোহের কবি, রবীন্দ্রোত্তর বাংলার সবচেয়ে শক্তিমান কবি- এমন নানা ভূষণে-উপাধিতে পরিচিত কাজী নজরুল ইসলাম। তার সৃষ্টি-কর্মে মানবপ্রেম ও দেশপ্রেমের বাণী উচ্চারিত হয়েছে প্রবলভাবে। সেই মানবপ্রেম ও দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সোমবার পালিত হয়েছে এ সব্যসাচী লেখক-সাহিত্যিকের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী। রাজধানীসহ দেশের সকল জেলায় তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন। 
 
এ বছর জাতীয় পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তীর প্রধান অনুষ্ঠান ছিল কবিব স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লার টাউন হলে মাঠে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া দৌলতপুর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও ছিল বর্ণাঢ্য আয়োজন। 
 
গতকাল ভোর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমান সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ। কবির পরিবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।  ভোরে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক কবির মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল, বিভাগ এবং শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠনও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। সকাল পৌনে সাতটার দিকে কাজী নজরুল ইসলামের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। 
সকালে কবির মাজার প্রাঙ্গণে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ সভায় বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, বাংলা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল বক্তব্য রাখেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন। 
 
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, কবি নজরুল যে মৃত্যুঞ্জয়ী তার প্রমাণ হলো, আজ আমরা যখনই কোনো সাংস্কৃতিক সঙ্কটে পড়ি তখনই আশ্রয় খুঁজি তাঁর কবিতায়। তিনি সব সময়ই আমাদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য বড় প্রেরণাও নজরুলের সৃষ্টি। 
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নজরুল মনস্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজের অসাম্য, সাম্প্রদায়িকতা, অন্যায় ও অবিচার দূর করতে নজরুল যুবক ও তরুণ সমাজকে প্রাণশক্তি দিয়েছেন। এই প্রাণ শক্তি আর তার অন্তদৃষ্টি এবং দূরদৃষ্টি এক দার্শনিক চেতনা ধারণ করে। ধর্মের নামে মানুষ হত্যা, ধর্মের নামে নারী লাঞ্ছনা, এসবকে প্রতিরোধ করতে নজরুল আমাদের প্রেরণার উৎস। মহান মুক্তিযুদ্ধে নজরুলের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁর কবিতা ও গান এদেশের  মুক্তিসেনাদের উজ্জ্বীবিত করেছিল, এদেশের মানুষকে করেছিল অনুপ্রাণিত। সভাশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সংগীত পরিবেশন করে। 
পুষ্পে-শ্রদ্ধায় কবিকে স্মরণ 
 
গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাতীয় কবির মাজার প্রাঙ্গণে ভিড় জমান বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা-বয়সের মানুষ। শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে রাজনৈতিক, সামজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন। সকালে কবি পরিবারের পক্ষে সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন কবি-নাতনী খিলখিল কাজী, পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহবুবা মশকুর, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শিরিন আক্তার, আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক ওয়াদুদুল বারী চৌধুরী প্রমুখ। কবির সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল একাডেমি, নজরুল সঙ্গীত শিল্পী পরিষদ, নজরুল ইনস্টিটিউট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, উদীচী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু কবিতা পরিষদ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি), বাংলা বিভাগ, নজরুল গবেষণা কেন্দ্র, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সর্বধর্মীয় কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন। 
 
নজরুল চর্চায় বিকৃতি দূর করার আহ্বান
বিশিষ্টজনরা বলেছেন, নজরুল সাহিত্য চর্চায় একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিকৃতি ঘটাচ্ছে। এ বিকৃতি দূর করতে সচেতন দেশপ্রেমিক ও নজরুল গবেষকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এক দিনব্যাপী জাতীয় সেমিনারে বিশিষ্টজররা এ কথা বলেন। নজরুল গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, নজরুলকে এক সময় জাতীয়ভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছিল পাকিস্তানিরা। বাংলাদেশে জাতীয় কবি করে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে, আমরাও সম্মানিত হয়েছি। 
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান, গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর। সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া, রাজশাহী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক-অধ্যাপকদের সুচিন্তিত গবেষণা-প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং আলোচনা করা হয়। 
 
শিল্পকলা একাডেমি: একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলায়নতনে শুরু হয়েছে দুই দিনের নজরুল উৎসব। এদিন একাডেমির সচিব জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক এবং অধ্যাপক ড. করুণাময় গোস্বামী। আলোচনা শেষে সমবেত সঙ্গীত ‘মোরা ঝঞ্জার মতো উদ্দাম’ ও ‘শুকনো পাতার নূপুরে’ গানটি পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির প্রশিক্ষণ বিভাগের শিশুশিল্পীরা।  এ ছাড়া ভাওয়াইয়া প্রশিক্ষণার্থী দলও বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন। নজরুলের ভাবসম্পদ থেকে সৃষ্ট ‘দ্রোহ ও সৃষ্টি’ শীর্ষক সমবেত নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমির রেপার্টরি নৃত্য দল। ‘ও ভাই খাঁটি সোনার চেয়ে খাঁটি আমার দেশের মাটি’ গানের নৃত্য পরিবেশন করে মীনু হকের পরিচালনায় পল্লভী নৃত্য সংগঠন। আরও একটি দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে ফারহানা চৌধুরী বেবীর পরিচালনায় হাজার তারের বীণা। নজরুলের প্রেম, পূজা, প্রকৃতি ও ভক্তিমূলক গান পরিবেশন করেন সালাউদ্দিন আহমেদ, খিলখিল কাজী, এম এস মান্নান, বুলবুল মহলানবীশ, জান্নাতুল ফেরদৌস লাকী, শবনম মুশতারী, শারমীন সুলতানা, রাহাত আরা গীতি। তাদের কণ্ঠে শোনা গেলো ‘ভুল করে যদি ভালোবেসে থাকি’, ‘উতলা হলো শান্ত আকাশ’, ‘কার নিকুঞ্জে রাত কাটাই’, ‘চেয়োনা সুনয়না’, ‘আমার কোন কূলে আজ’, খোদার প্রেমে সরাব’, তুলসি তলায় প্রিয় সন্ধ্যা বেলায়’, ‘মম তনুর ময়ূরও সিংহাসনে’সহ আরও অনেক গান। নজরুলে রচনাবলী থেকে পাঠ ও আবৃত্তি করেন ডালিয়া আহমেদ ও মীর বরকত। এর মধ্যে ডালিয়া আহমেদ আবৃত্তি করেন নজরুলের ‘আগমনী’ কবিতাটি। দুইদিনের অনুষ্ঠানমালা প্রথম দিনের আয়োজনে উপস্থাপনা করেন রোকেয়া প্রাচী ও রফিকুল ইসলাম। আগামীকাল মঙ্গলবার দুই দিনের অনুষ্ঠানমালা দ্বিতীয় ও সমাপনী দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে সমবেত সঙ্গীত পরিবেশন করবে শিল্পকলা একাডেমির রেপার্টরি গানের দল ও নজরুল ইন্সটিটিউট। সমবেত নৃত্য পরিবেশন করবে মুনমুন আহমেদের পরিচালনায় রেওয়াহ পারফর্মিং আর্ট সেন্টার, লায়লা হাসানের পরিচালনায় নটরাজ এবং আনিসুল ইসলাম হিরুর পরিচালনায় সৃষ্টি কালচারাল একাডেমি, একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন খালিদ হোসেন, ফাতেমা তুজ জোহরা, রেবেকা সুলতানা, সুমন চৌধুরী, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, অনিন্দিতা রায়, ডালিয়া নওশিন, মফিজ, শামীমা পারভীন শিমু, রওশন আরা সোমা, সঞ্জয় কবিরাজ ও সোনিয়া আলী মিতু। আবৃত্তি পরিবেশন করবেন লায়লা আফরোজ, শিমুল মোস্তফা ও ফয়জুল্লাহ সাঈদ। 
 
এবি ব্যাংক-চ্যানেল আই নজরুলমেলা: ১১৬তম নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আই ভবনে নজরুলমেলার আয়োজন করা হয়। সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাস, নীলিমা দাস, খালিদ হোসেন, মোস্তফা জামান আব্বাসী, আসমা আব্বাসী, আজাদ রহমান, আবদুল মান্নান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ হাসান ইমাম, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, কবি আসাদ চৌধুরী, ফেরদৌস আরা, নাশিদ কামাল, শাহীন সামাদ, লীনা তাপসী খানসহ দেশের নজরুল চর্চ্চা ও সঙ্গীতের বিশিষ্টজন নিয়ে ‘এবি ব্যাংক-চ্যানেল আই নজরুলমেলা’ মেলার উদ্বোধন করেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। এ সময় চ্যানেলটির পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ, পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু, এবি ব্যাংক লি.-এর এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট চৌধুরী মনজুর লিয়াকত, আই এফ আই সি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম সারোয়ার ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ লি.-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (সেলস্ এন্ড মার্কেটিং) আসিফ ইকবাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
মেলায় আই এফ আই সি ব্যাংক-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আজীবন সম্মাণনা প্রদান করা হয় বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীতশিল্পী খালিদ হোসেন ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নজরুল গবেষণা সংগঠন ‘তরঙ্গ অফ ক্যালফোর্নিয়া’কে। তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন-সুধীন দাস, ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, মুকিত মজুমদার বাবু প্রমুখ।সম্মাননা পর্ব শেষ হয় সুধীন দাসের কণ্ঠে ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমার হেরিনু পল্লী জননী’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। 
 
মেলায় নজরুল সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরার অডিও সিডি  ‘নজরুল সমগ্র-৩’ এবং ‘নজরুল সমগ্র-৪’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সিডি দুটি প্রকাশ করেছে ইমপ্রেস অডিও ভিশন লি.। চ্যানেল আই খোলা প্রাঙ্গণ চত্বরে নজরুলমেলার মঞ্চ থেকে সঙ্গীত পরিবেশন করেন নাশিদ কামাল, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আবদুল মান্নান, রওশন আরা সোমা প্রমুখ। আবৃত্তি করেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও শিমুল মুস্তাফা। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পীরা। চিত্রশিল্পী আব্দুল মান্নান ও তানিম শিশুশিল্পীদের সঙ্গে নিয়ে নজরুলের ভাবসম্পদ অবলম্বনে ছবি আঁকেন। 
 
নজরুল একাডেমি: একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে ছিল নজরুল একাডেমির চারদিনের অনুষ্ঠানমালার সমাপনী দিন। এদিন সাংস্কৃতিক পর্বে একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন খালিদ হোসেন, মইদুল ইসলাম, সেলিম রেজা, বদিউজ্জামান, মাজহারুল ইসলাম, সেহেলী জাহান, ড. মাহজাবিন রহমান শাওলী, করিম শাহাবুদ্দিন, প্রমুখ।  আলোচনা সভায় অংশ নেন মুস্তাফা জামান আব্বাসী। সভাপতির বক্তব্য দেন একাডেমির সভাপতি ড. আশরাফ সিদ্দিকী। নজরুল বিষয়ক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘গদ্যশিল্পী নজরুল’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রদান একাডেমির অধ্যক্ষ খালিদ হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মিন্টু রহমান ও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান।