আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে আমিনুল ইসলাম (৩৮) ও শাকিব বিন কামাল (৩০) নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর উত্তরা ও লালমাটিয়া এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে।
আমিনুল ইসলাম একটি বহুজাতিক কোম্পানির হেড অব আইটি। পড়াশোনা করেছেন মালয়েশিয়ায়। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে। অপর দিকে শাকিব বিন কামাল পড়াশোনা করেছেন আইইউবি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি মগবাজারের স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
শাকিব বিন কামাল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ডাক্তার সুফিয়া রহমানের ছেলে। ডাক্তার সুফিয়া রহমান ২০০৬ সালে ড.ইয়াজউদ্দিন নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এর আগে তিনি জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ছিলেন।
উত্তরা পশ্চিম মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গতকাল সোমবার আমিনুল ও শাকিবকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
এ ব্যাপারে গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমিনুল জেএমবির সাবেক আঞ্চলিক সমন্বয়ক আর শাকিব জেএমবি সদস্য। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ইরাক ও সিরিয়ার মতো দেশে গণতান্ত্রিক সরকারকে উত্খাতের মাধ্যমে আইএস নির্দেশিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য ইন্টারনেটে কর্মী সংগ্রহ করছিল।
মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, দুজনই উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ। আইএস নির্দেশিত খিলাফত প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য ছিল। এজন্য আমিনুল ইসলাম অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য সংগ্রহ করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছিল।
যুগ্ম কমিশনার বলেন, দেশের কোনো ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে, ব্লগার হত্যা, কিংবা সাম্প্রতিক সময় বিশিষ্ট নাগরিকদের হত্যার হুমকি দেয়ার সাথে তাদের দুইজনের সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে।
গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহজাহান, ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও এসি মাহফুজুল আলম ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি ল্যাপটপ, একটি ল্যাপটপ চার্জার, তিনটি দামী মোবাইল সেট, বিভিন্ন লেখকের সাতটি জিহাদী বই ও ডায়েরি।