বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান সঠিক কথাই বলিয়াছেন: অনেক বড় বড় শিল্পপতি ঋণখেলাপী হন কিন্তু নারী উদ্যোক্তারা সাধারণত ঋণখেলাপী নন। ঋণ নিয়া তাহারা সঠিকভাবে কাজে লাগান এবং যথাসময়ে ফেরতও দেন। সমপ্রতি সিলেটে নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও এসএমই ব্যাংকিং সেমিনারে তিনি কথাগুলি বলিয়াছেন। এই অভিজ্ঞতা কেবল তাহার নহে। সরকারি বেসরকারি সকল ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাই তাহার মুখে উঠিয়া আসিয়াছে। এই কারণেই হয়তো তিনি নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দিতেছেন এবং প্রতি বত্সর ১০ হাজার নূতন নারী উদ্যোক্তা তৈরির স্বপ্ন নিয়া আগাইতেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সকল তফসিলী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইউনিট গঠন করিয়াছেন এবং ইহাতে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হইবে বলিয়া মনে করিতেছেন।
সন্তান ধারণ, জন্মদান ও বড় করিয়া তুলিবার জন্য প্রকৃতি নারীদেরকে যে ধৈর্য, কোমলতা, দায়িত্বশীলতা ইত্যাদি গুণে সৃজন করিয়াছে তাহাই উদ্যোক্তা হিসাবেও তাহাদেরকে পুরুষের তুলনায় অগ্রগামী করিয়া রাখিয়াছে। যাযাবর মানুষ থিতু হইয়া কৃষি সভ্যতা গড়িয়া তুলিয়াছিল নারীদের কল্যাণেই; পুরুষ জানিয়া নিয়াছিল চাষাবাদের কলাকৌশল এবং আবাদযোগ্য শস্য ও বীজের খবরাখবর। উদ্যোক্তা হিসাবে আমাদের নারী সমাজের একটি বিশাল অংশ বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখিবার যোগ্যতা ও মেধাসম্পন্ন হইলেও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার অভাবে এবং সাধারণভাবে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এখনও পিছাইয়া আছে। কিন্তু আমাদের অর্থনীতির রঙিন সময় গড়িয়া তুলিতে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাইতেই হইবে, এমনকি তাহাদের কাছ হইতে শিখিতেও হইবে ঋণখেলাপী না হইয়া যথাযথ বিনিয়োগ ও স্বাবলম্বী হইবার কায়দা-কানুন।