বাজেট এলেই বাড়ে দুই মন্ত্রণালয়ের দ্বন্দ্ব

প্রতি বছর বাজেট এলেই বরাদ্দ নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়ে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বাড়তি বরাদ্দের জন্য চাপ বা চাহিদাপত্র দিয়ে থাকে। পরিকল্পনা বিভাগ চাহিদামত বরাদ্দের খসড়া তৈরি করতে পারে না। অর্থমন্ত্রী সবকিছুতে সম্মত না হওয়ায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের করার কিছু থাকে না। এ নিয়েও দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকে। বিষয়গুলো কখনো কখনো ব্যক্তিগত পর্যায়েও চলে যায়। সভা-সমিতিতেও তা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

 
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় চায়- দেশকে দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে নিয়ে যেতে। সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগ জরুরি। সেই বিনিয়োগ প্রক্ষেপণ অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পদের যোগান ও বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারে না। কারণ, সম্পদ আহরণের বড় চ্যালেঞ্জ তাকে মোকাবেলা করতে হয়। অর্থের সংস্থান না হলে কেবল বরাদ্দ দিয়ে তো লাভ নেই। যদিও বছর শেষে দেখা যায় পুরো অর্থের ব্যবহার করা যায় না। এই সমস্যাটি যেমন দীর্ঘদিনের, তেমনি অর্থের শতভাগ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বছরের পর বছর ধরে। কখনোই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, অতীতেও অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছিল। কখনো আবার ব্যক্তিগত পর্যায়েও একে অপরের মতো খণ্ডনে ব্যস্ত ছিলেন মন্ত্রীরা। তাদের এই দ্বন্দ্বের কারণে কোন কোন সরকার দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই একজনকে দিয়েছিল। তাতে ‘টাগ অব ওয়ার’টা থাকতো না। বর্তমান সরকারের সময়েও দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে রশি টানাটানি কম হচ্ছে না। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকাশ্যেই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সমালোচনা করেছেন।
 
সূত্রমতে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ নির্ধারণের সময় বাড়তি বরাদ্দের ঝামেলা মেটাতে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হতে হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাড়তি বরাদ্দ অনুমোদন করেন।
 
প্রসঙ্গত, দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে অর্থ মন্ত্রণালয়। দেশকে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের তালিকায় নিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থান ও বরাদ্দ সীমা নির্ধারণ করা হয় এই মন্ত্রণালয় থেকে। সরকারের সম্পদের সর্বোত্তম ও কার্যকর ব্যয়-ব্যবহারের দায়িত্বও মন্ত্রণালয়টির ওপর ন্যস্ত।
 
অপরদিকে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে দেশের কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা তৈরি করে। দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্বল্প ও মধ্য মেয়াদি কৌশল স্থির করা, প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করাও এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এই মন্ত্রণালয় সাধারণত নীতি পরিকল্পনা, খাতভিত্তিক পরিকল্পনা, কর্মসূচি নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও তদারকির দায়িত্ব পালন করে।
 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, এ দুটো মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে উন্নয়নের মূল লক্ষ্য অর্জনই ব্যাহত হতে পারে। যেহেতু দুইটি মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য একই এবং এক মন্ত্রণালয় অপর মন্ত্রণালয়ের পরিপূরক। কাজেই সমন্বয়টাজরুরি।