যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপিলের রায় ১৬ জুন ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আসামি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন।
এদিকে ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় সর্বোচ্চ আদালতে বহাল থাকবে এই প্রত্যাশা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অপরদিকে মুজাহিদের আইনজীবী শিশির মো. মনির বলেন, আমাদের উপস্থাপিত যুক্তিতর্ক গ্রহণ করে আপিল বিভাগ সকল অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেবেন এটাই আশা করি।
২০১৩ সালের ১৮ জুলাই বুদ্ধিজীবী নিধনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ষষ্ঠ অভিযোগ বুদ্ধিজীবী নিধনে সহযোগিতা ও পরিকল্পনা এবং সপ্তম অভিযোগ হিন্দু হত্যা ও নিপীড়নের দায়ে তাকে এই দণ্ডাদেশ দেয়।
ওই ফাঁসির রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলে, একাত্তরে ছাত্র সংঘের সদস্যরা আলবদর বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়। যেহেতু মুজাহিদ ছাত্র সংঘের ঊর্ধ্বতন নেতা ছিলেন, এ জন্য আলবদর ও ছাত্র সংঘ দুটি সংগঠনের ওপরই তাঁর কর্তৃত্ব ছিল। মুজাহিদ একাত্তরে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে ক্ষমতাধারী ছিলেন, আর এ ক্ষমতার জন্যই তিনি আলবদর বাহিনীকে দিক-নির্দেশনা দিতে পারতেন। সব ধরনের নথি ও সাক্ষ্য মূল্যায়ন করে বোঝা যায়, মুজাহিদ আলবদর বাহিনীর সব ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতেন। অবস্থানগত কারণেই আলবদর গঠন থেকে শুরু করে হত্যা-নিধনযজ্ঞের শেষ পর্যন্ত এ বাহিনীর ওপর তার কর্তৃত্ব ছিল।
আলবদরের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল ছিলেন বলে রায়ে উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনাল।
মৃত্যুদণ্ডাদেশের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ওই বছরের ১১ আগস্ট আপিল করেন মুজাহিদ।
গত এপ্রিল মাসে এ আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। নয় কার্যদিবসব্যাপী এ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও আমসামি পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান অংশ নেন।
বুধবার শুনানির এক পর্যায়ে আদালত বলে, মুক্তিযুদ্ধচলাকালীন সময়ে বুদ্ধিজীবী হত্যা ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ যাতে মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে সেজন্যই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণার জন্য ১৬ জুন দিন ধার্য করে দেয়।
১৬ জুন এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে আরেকটি আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। বেঞ্চের অপর বিচারকরা হলেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
উল্লেখ্য মানবতাবিরোধী অপরাধীদের দায়েরকৃত তিনটি আপিলের ওপর চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
আপিল বিভাগের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লা ও এম কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকর করেছে সরকার। তবে ট্রাইব্যুনাল জামায়াতের নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও সাজা পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয় আপিল বিভাগ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এছাড়া আপিল বিচারাধীন থাকাবস্থায় মারা গেছেন জামায়াত নেতা গোলাম আযম ও বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীম। পরে এসব আপিল অকার্যকর ঘোষণা করে আপিল বিভাগ।