দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র ও নদী পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে হবে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘সমুদ্র আন্তঃযোগাযোগ বৃদ্ধি: বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা’ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, সমুদ্র ও নদী পথের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারলে কম সময়ে এবং কম খরচে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব। এতে বৈদেশিক বাণিজ্য সহজ ও লাভজনক হবে। বুধবার চেম্বার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ন্যাভাল আর্কিটেকচার এবং মেরিটাইম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর খাবিরুল হক চৌধুরী, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান খানসহ আরও অনেকে। এইচ এ গ্রুপ অব কোম্পানীর টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার ক্যাপ্টেন এ কে এম শফিউল্লাহ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
শাজাহান খান বলেন, গত বছর চট্রগ্রাম সমুদ্রবন্দর ১ দশমিক ৭১ মিলিয়ন কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে। ২০০৯ সালে এর পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১৬ মিলিয়ন। বর্তমান সরকার দেশের সমুদ্র বন্দরের পাশাপাশি নদী বন্দরগুলোর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা নিয়েছে। পায়রা বন্দর স্থাপনের জন্য ৬-৭টি দেশ ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৩ সালের মধ্যে এ বন্দরের কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এছাড়া দেশের ৫৩টি নদীপথ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪টি নদী পথ সংস্কারের জন্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। অবকাঠামো খাতের যথাযথ সংস্কার করতে পারলে ৮-৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, সারা পৃথিবীর পণ্য পরিবহনের শতকরা ৮০ ভাগই সমুদ্র পথের মাধ্যমে হয়। আমাদেরকেও এ খাতকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। চট্রগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভারত, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা, ভুটান এবং চীনের সাথে আরো বেশি সমুদ্র পথের যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।
এ কে এম শফিউল্লাহ বলেন, আঙ্কটার্ড প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্র পথে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা গেলে দাম ৫৫ ভাগ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। বাংলাদেশের ২৪,০০০ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে। স্বল্পমূল্যে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে হলে এ নৌপথকে রক্ষা করতে হবে।