টেস্টে থাকবেন না ডি ভিলিয়ার্স ও স্টেইন

 
জুলাই মাসের শুরুতে বাংলাদেশে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা দল দেশে ফিরবে আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আর জুলাইয়ের শেষ ও আগস্টের শুরুর সময়টাই বাড়িতে থাকাটা খুব জরুরী এবি ডি ভিলিয়ার্সের। কারণ, এই সময়েই প্রথম বারের মতো তার বাবা হওয়ার কথা।
 
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড বর্তমানের অন্যতম সেরা আক্রমণাত্মক এই ব্যাটসম্যানকে পিতৃত্বকালীন ছুটি দিয়েছে। ফলে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলে দেশে ফিরে যাওয়া এবি ডি ভিলিয়ার্সকে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে পাচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা।
 
ডি ভিলিয়ার্সের এই বিয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ সফরের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার গতকাল ঘোষিত তিনটি দলে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল, ডেল স্টেইনের সীমিত ওভারে না থাকা এবং টেস্ট দলে নতুন চার তরুণের অন্তর্ভুক্তি।
 
দক্ষিণ আফ্রিকার বাংলাদেশ সফর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। ৫ ও ৭ জুলাই মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে দুটি টি-টোয়েন্টি। এরপর মিরপুর ও চট্টগ্রামে তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ১০, ১২ ও ১৫ জুলাই। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে ২১ জুলাই থেকে প্রথম টেস্ট। আর সফরের শেষ ম্যাচ ও দ্বিতীয় টেস্ট মিরপুরে শুরু হবে ৩০ জুলাই।
 
টেস্ট দলে দক্ষিণ আফ্রিকা চার জন একেবারে তরুণকে সঙ্গে নিয়ে আসছে। এদের মধ্যে আছেন ব্যাটসম্যান রেজা হেনড্রিকস, উইকেট রক্ষক ড্যান ভিলাস, বাঁহাতি স্পিনার অ্যারন ফানগিসো এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদা। এই চার জনই সীমিত ওভারের ক্রিকেটে কোনো না কোনো ফরম্যাটে আগে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন, কিন্তু টেস্ট এখনও খেলা হয়নি।
 
এই পরিবর্তনগুলো আসলে দক্ষিণ আফ্রিকান বোর্ড করতে অনেকটা বাধ্য হয়েছে বলে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) নির্বাচক কমিটির আহবায়ক অ্যান্ড্রু হাডসন দাবি করলেন। তিনি বলছেন বছরের শুরুর দিকে আলভিরো পিটারসেনের অবসন ও এই টেস্ট সিরিজে ডি ভিলিয়ার্সের না থাকার ফলে তাদের উইকেট রক্ষক, ওপেনিং ও মিডল অর্ডার ব্যাটিংয়ে এই অপশনগুলো ভাবতে হয়েছে, ‘রেজা এবং ভ্যান জিল দু জনই ওপেন করতে পারে। আবার স্টেইন মিডল অর্ডারেও ব্যাট করতে পারে। ডেন আমাদের ভালো একটা উইকেট কিপিং পছন্দ; যেটা সাধারণ এবি করে থাকে।’
 
একইসঙ্গে হাডসন মনে করেন বাংলাদেশের এই কন্ডিশন একজন বাঁহাতি স্পিনার ও একজন ব্যাক আপ ফাস্ট বোলারকে সুযোগ দেওয়ার সেরা জায়গা, ‘অ্যারন আমাদের এই কন্ডিশনে একটা দারুণ বাঁহাতি স্পিনের সুযোগ তৈরি করে দেবে।’
 
ওয়ানডে দলে রাবাদা ও ফাস্ট বোলার ক্রিস মরিনও ডাক পেয়েছেন। অলরাউন্ডার রায়ান ম্যাকলারেন বিশ্বকাপ না খেললেও আবার ডাক পেয়েছেন। ওয়ানডে থেকে বিশ্রাম পেয়েছেন ভারনন ফিল্যান্ডারও। টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ঠাই হয়নি স্টেইন, মরকেল ও ইমরান তাহিরের। এদিকে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন এডি লেইয়ি।
 
লেইয়ির সংযোজন সম্পর্কে হাডসন বলছিলেন, আসলে তারা ভারতের অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই কন্ডিশনে আরও কিছু সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চান।
 
দক্ষিণ আফ্রিকা
টেস্ট দল: হাশিম আমলা (অধিনায়ক), ডিন এলহার, রেজা হেনড্রিকস, ফাফ ডু প্লেসিস, স্টিয়ান ভ্যান জিল, জেপি ডুমিনি, কুইন্টন ডি কক, ভারনন ফিল্যান্ডার, ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল, অ্যারন ফানগিসো, সিমন হারমার, টেমবা বাভুমা, কাগিসো রাবাদা, ডেন ভিলাস।
 
ওয়ানডে দল: এবি ডি ভিলিয়ার্স (অধিনায়ক), হাশিম আমলা (সহঅধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডু প্লেসিস, রিলে রোসাউ, জেপি ডুমিনি, ডেভিড মিলার, ফারহান বেহারদিয়েন, ক্রিস মরিস, মরনে মরকেল, ইমরান তাহির, কাগিসো রাবাদা, কাইল অ্যাবট, অ্যারন ফানগিসো, ওয়েইন পারনেল, রায়ান ম্যাকলারেন।
 
টি-টোয়েন্টি দল: ফাফ ডু প্লেসিস, কুইন্টন ডি কক, রিলে রোসাউ, এবি ডি ভিলিয়ার্স, জেপি ডুমিনি, ডেভিড মিলার, ডেভিড উইসি, ক্রিস মরিস, কাইল অ্যাবট, কাগিসো রাবাদা, অ্যারন ফানগিসো, এডি লেইয়ি, ওয়েইন পারনেল, বুরান হেনড্রিকস।