‘বিয়ের টাকা জোগাড় করতে ভাবি ও ভাতিজিকে খুন করি’

 
চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর মা ও মেয়ে জোড়াখুনের ঘটনার ২০ দিন পর হত্যাকারী মো. বেলাল হোসেন (১৯) পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। গ্রেফতার হওয়া বেলাল নিহত নাসিমা বেগমের স্বামী শাহ আলমের খালাতো ভাই।
 
গত ৭ মে সকাল সোয়া ৯টায় নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকার আল ইসলাম ভবনের চতুর্থ তলায় শাহ আলমের বাসায় প্রবেশ করে ভাবি নাসিমা ও ভাতিজি রিয়া আক্তার ফাল্গুনীকে নিজ হাতে জবাই কারে হত্যা করে বেলাল। এরপর বাসার আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ ২ লাখ ৭১ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
 
নাসিমার হারিয়ে যাওয়া দুইটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গতকাল মঙ্গলবার নগরীর সদরঘাট এলাকা থেকে বেলালকে গ্রেফতার করে মহানগর ডিবি পুলিশ।
 
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২টি মোবাইল ফোন, ১টি টেলিভিশন সেট, ১টি ডিভিডি প্লেয়ার, ২টি সাউন্ড বক্স ও ১ ভরি ৩ আনা ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে টেলিভিশন সেট, সাউন্ড বক্স ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় বেলালের কথিত প্রেমিকার বাসা থেকে।
 
অপর মোবাইলটি উদ্ধার করা হয় বেলালের বন্ধু আশরাফুলের কাছ থেকে। স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয় বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর এলাকার মৌমিতা জুয়েলার্সের মালিক টিটু সাহার কাছ থেকে।
 
গ্রেফতারের পর বেলালকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমদিকে বেলাল নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পরবর্তীতে খুনের কথা স্বীকার করে। তবে ঘটনার সাথে সে আরো কয়েকজনকে জড়িত করার চেষ্টা করে। কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদের পর সে একাই ভাবি ও ভাতিজিকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে।
 
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল জানায়, একটি মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকদিন পর তাদের বিয়ে হওয়ার কথা। কিন্তু বিয়ে করার টাকা তার কাছে ছিল না। এক পর্যায়ে টাকার জন্য আপন খালাতো ভাই মাংস বিক্রেতা শাহ আলমের বাসায় ডাকাতি করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দুইদিন আগে শাহ আলমের বাসায় বেড়াতে এসে রাতে ওই বাসায় অবস্থান করে বেলাল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ মে সকাল সোয়া ৯টায় শাহ আলমের বাসায় যায় বেলাল।  শাহ আলমের দুই ছেলে রিয়াদ ও হৃদয় তখন স্কুলে ছিল। তবে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মেয়ে রিয়া সেদিন স্কুলে যায়নি।
 
বেলাল তাকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ছুরি দিয়ে ক্রমাগত আঘাত করতে থাকে। এতে নাসিমা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। মায়ের গোঙ্গানির শব্দ শুনতে পেয়ে বেডরুম থেকে বের হয়ে আসে ১০ বছরের মেয়ে রিয়া। বেলাল তাকে মুখ চেপে ধরে বাথরুমের ভেতরে নিয়ে গিয়ে জবাই করে হত্যা করে। এরপর বাসার আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।