জাতিসংঘ জানিয়েছে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে এখনো আড়াই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়ের আশায় নৌকায় ভাসছে। অপরদিকে, সাগরে আটকে পড়া অভিবাসীদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ড। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাগরে ভাসমান শরণার্থীবাহী নৌকাগুলোর অবস্থান চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কাজ শুরু করেছে বলে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।
এদিকে, অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার বন্ধে শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ১৭ দেশের অংশগ্রহণে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যে ব্যাংককে পৌঁছেছে।
মানব পাচার বন্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরা হবে বৈঠকে। এ সম্মেলনে মানব পাচার রোধে সমাধানের উপায় বের হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর:রয়টার্স, ব্যাংকক পোস্ট।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মালয়েশিয়ার সীমান্তের কাছে থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে মানব পাচারকারীদের কিছু ক্যাম্প ও অভিবাসীদের গণকবর আবিষ্কারের পর চরম মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি সামনে চলে আসে। এরপর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সাগরে ভাসমান মানুষদের আশ্রয় দিতে সম্মত হয়েছে। এখনো তাদের সন্ধানে অভিযান চলছে। এরই মধ্যে বুধবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, সাতটি নৌকায় এখনো প্রায় ২হাজার ৬শ’ মানুষ সাগরে ভাসছে।
ইউএনএইচসিআর ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বলছে, খাবার-পানির অভাবে এসব মানুষ মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। সাগরে আটকা পড়া মানুষদের সন্ধানে অভিযান শুরু করেছে মার্কিন সেনারা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেফ রাথকে মঙ্গলবার জানান, মার্কিন নৌবাহিনীর পিএইট বিমান মালয়েশিয়াকে সহায়তায় অভিযান চালাচ্ছে। থাইল্যান্ডও তাদের বিমানবাহিনীকে উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের হাতিয়া দ্বীপে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মিয়ানমারের শরণার্থী সেলের প্রধান অমিত কুমার বাউল এএফপিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের হাতিয়া দ্বীপে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছে সরকার।
মানবপাচার ঠেকাতে সাত বিভাগে ‘মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনে আমরা জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বিদ্যামান আইনে এই ট্রাইব্যুনালে বিচার করা হবে।
তিনি বলেন, সাত বিভাগে একটি করে ট্রাইব্যুনাল হবে। জেলায় জেলায় না হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে মানবপাচারের মামলাগুলোর বিচার হলে ‘ভিকটিকমদের’ বিচার পাওয়া সহজ হবে।
বর্তমান মানবপাচার আইনে সংঘবদ্ধভাবে মানবপাচারের অপরাধে সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।