ঠাকুরগাঁওয়ে নদী মরে যাচ্ছে। আর ওই মরা নদীর বুক ভরে উঠেছে ভূমিহীন চাষীদের ফলানো ধানে। মৃতপ্রায় এসব নদীতে জেগে ওঠা বালুচরের পতিত জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন ভূমিহীন কৃষকরা।
জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় ১২টি নদীর উত্সমুখ ভারতের উজানে। একতরফাভাবে বাঁধ দেয়ায় শুকনো মৌসুমে এসব নদীতে চর পড়ে যায়। আর এ সুযোগে নদী তীরবর্তী ভূমিহীনরা চরকে চাষাবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়। শুকনো মৌসুমে প্রতিবছরের মতো এবারও জেলার ছোট-বড় নদীগুলোতে বোরো ধান চাষ করেছেন সহস্রাধিক কৃষক। বর্তমানে রোপণ পরবর্তী পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
নদীর বুকে ধানের সবুজ চারাগাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। অধিকাংশ চাষীই গত ৮/১০ বছর যাবৎ জেগে ওঠা চরে বোরো চাষ করছেন। নভেম্বর থেকে নদীতে পানি কমে গেলে বালুচরের জায়গা নিজেদের দখলে নিয়ে বোরো চাষের উপযোগী করে তোলার কাজে নেমে পড়েন চাষীরা। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে জমি সমান করার পর বোরো ধান রোপণ করা হয়।
চাষীরা জানান, নদীতে বোরো ধান চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। বিপরীতে একবিঘা জমিতে ধান আসে ২২ থেকে ২৫ মণ। তা দিয়েই ভূমিহীন কৃষকদের কয়েক মাসের খাবারের জোগান হয়। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী ড্রেজিং করে বাঁধ ও জলকপাট নির্মাণ করতে হবে। সেইসঙ্গে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কৃষিক্ষেত্রে সেচ সুবিধা অব্যাহত রাখা সম্ভব।