ধারাবাহিকতাই মাশরাফির লক্ষ্য

 
 
 
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের সোনালী স্মৃতি মানেই যেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই ২০০৭ বিশ্বকাপ বলুন, এশিয়া কাপ বলুন বা অন্য কোনো জয়। এবার সেই মাশরাফি ভারতের বিপক্ষে আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে আসছেন। কারণ, তারই নেতৃত্বে নতুন করে ঘুরে দাড়িয়ে বাংলাদেশ কাটাচ্ছে এক সোনালী সময়। ঘরের মাটিতে টানা আট ওয়ানডে জয়, পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশ, বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল; একটার পর একটা উচ্ছাসের মুহূর্ত উপহার দিচ্ছেন মাশরাফি। এমন অবস্থায় পরিষ্কার আশার কথা শোনালেন, এই ধারাবাহিকতা ভারতের বিপক্ষেও ধরে রাখতে চায় তার দল।
 
ভারতীয় একটি সংবাদ সংস্থার সঙ্গে দেওয়া সাক্ষাতকারে মাশরাফি বলছেন, তার দলের মূল শক্তিই হলো একটা ইউনিট হয়ে খেলা। আর সেটাই আবার করে দেখাতে চান, ‘আমাদের কয়েক জন খুব ভালো খেলোয়াড় আছে। তবে আমাদের মূল শক্তিটা হলো, সবাই একটা টিম হয়ে খেলা। আমরা অস্ট্রেলিয়ায় (বিশ্বকাপে) যেমনটা খেলেছি এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে যেমন খেলেছি, ভারতের বিপক্ষেও তাই খেলতে চাই। আশা করছি, ছেলেরা মাঠে নেমে সেই ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখবে এবং ভালো ফলাফল এনে দেবে।’
 
তবে ভালো ফলাফলটা যে কী, সেটা কিছুতেই বলতে চাইলেন না অধিনায়ক। তিনি এখনই ফলাফল নিয়ে ভেবে চাপ তৈরি করতে চাইছেন না, ‘আমি এখন কিছুই আশা করছি না। আমি নিশ্চিত করতে চাই, খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকে। আমরা এখন নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবছি। এখন যেমন টেস্ট দলের খেলোয়াড়রা মূলত টেস্টটা নিয়েই ভাবছে। একবারে সব ভাবা ঠিক না।’
 
এমনকি র‌্যাংকিং নিয়েও খুব একটা ভাবতে রাজি নন বাংলাদেশের এই সেরা পেসার, ‘আমরা র‌্যাংকিংয়ে খুব চিন্তায় ঠাঁই দিচ্ছি না। তাতে চাপ বেড়ে যাবে। ২০১৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কোয়ালিফাই করার অনেক হিসাব আছে। সেসব না ভেবে আমরা একটা একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবছি।’
 
নিজেদের ফলাফল নিয়ে না ভাবলেও এটা মাশরাফি জানেন যে, ভারত খুব শক্তিশালী একটা দল নিয়ে আসছে। সেভাবেই তারা প্রস্তুত হচ্ছেন, ‘ভারতের খুবই শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ আছে। আপনি কাউকেই বাদ দিতে পারবেন না। বিরাট কোহলি আছে। রোহিক, শিখর ধাওয়ান, আজিঙ্কা রাহানে ভালো ফর্মে আছে। মহেন্দ্র সিং ধোনি গত ৭-৮ বছর ধরে সমানে ভালো খেলে যাচ্ছে। ফলে তাদের কাউকেই আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন। তাদের বোলাররা, বিশেষ করে ফাস্ট বোলাররা বিশ্বকাপে ভালো করেছে।’
 
ভারতের সঙ্গে আবার খেলা মানেই বিশ্বকাপের স্মৃতি ফিরে আসা। মাঠের বাইরে অন্তত জোর আলোচনায় থাকবে কোয়ার্টার ফাইনালের সেই সব বিতর্ক। সেই সঙ্গে এই সিরিজে আবার ডিআরএসও থাকছে না।
 
মাশরাফি বলছেন, পুরোনো বিতর্ক নিয়ে আর কথা বলতে চান না। আর ডিআরএস নিয়েও মাথা ব্যাথা নেই তার, ‘আমি এটা (বিতর্ক) নিয়ে আর কথা বলতে চাই না। আমি এসব না ভেবে এখন সামনে তাকাতে চাই। আমি ডিআরএস নিয়ে ভেবে নিজের ঘুম নষ্ট করছি না। আমরা এটা ব্যবহার করতে না পারলে প্রতিপক্ষও পারবে না। ফলে এটা আমাদের জন্য বড় কোনো ব্যাপার নয়।’
 
সর্বোপরি মাশরাফি একটা ব্যাপার বিশ্বাস করেন যে, মাঠের ব্যাপার সব মাঠেই থাকবে। আর সে জন্যই এতো বছর পর হলেও ভারতে একটা পাল্টা সফরের আগ্রহটা তিনিও প্রকাশ করলেন, ‘অবশ্যই। ছেলেরা অবশ্যই ভারতে খেলতে চায়। আমরা ভারতের মাটিতে তাদের বিপক্ষে খেলার জন্য মুখিয়েই আছি। আশা করি, সামনে কোনো একটা সময় আমরা সেখানে যাবো এবং খেলব।’