বাজেটে প্রত্যাশা-প্রাপ্তির ব্যবধান কমছে

আসছে বাজেটে প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির ব্যবধান কমিয়ে আনা হচ্ছে। বারবার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েও তা অর্জন করতে না পারায় এবার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৭ শতাংশে নির্ধারণ করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছর (২০১৫-১৬) থেকে শুরু হচ্ছে সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম বছর। এর আগের ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য আর অর্জনের বিশাল ব্যবধান থাকায় শুরু থেকেই অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

 

আগামী ৪ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত টানা ৭ম বারের মতো বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে এবার বড় আয়-ব্যয়ের কর্মসংস্থানমুখী বিশাল বাজেট তৈরি করছেন অর্থমন্ত্রী। এই প্রত্যাশায় প্রস্তাবিত বাজেটে মানবসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়ন। এর পরে রয়েছে বিদ্যুত্, জ্বালানি, সড়ক, রেলপথ ও বন্দরসহ সার্বিক ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন।

 
চলতি (২০১৪-১৫) অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো যদিও এর আগের বছর প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৬ ভাগ। চলতি অর্থবছরের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসেবে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৫১ ভাগ। সে হিসেবে আসছে অর্থবছরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনযোগ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, আসছে অর্থবছর থেকে এ পরিল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম বছর শুরু হচ্ছে। ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে প্রথম দুই বছরে ভালো অগ্রগিত হলেও শেষের দিকে এর গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। এবারের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের সমন্বয় করে প্রথম বছর থেকে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ধাপে ধাপে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকবে। একইসাথে প্রথম বছর থেকে জিডিপির অনুপাতের ৩০ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্য থাকছে। উল্লেখ্য, বিবিএস এর হিসেবে বর্তমানে জিডিপির অনুপাতে বিনিয়োগ রয়েছে ২৮.৯৯ ভাগ। আসছে বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য থাকছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। এটি বর্তমানে রয়েছে ৬.৩২ শতাংশ। ড. শামসুল আলম বলেন, সব মিলিয়ে অর্জনযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগমী জুন মাসে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে বলে জানান তিনি।
 
অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানাযায়, বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি। চলতি অর্থবছরে মূল বাজেট রয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার। চলতি অর্থবছরের চেয়ে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বাড়ছে প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ।
 
বাজেটে ভর্তুকি
 
বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ কমছে না। বিশেষ করে কৃষি খাতের ভর্তুকি কোনভাবেই কমানো হবে না। সেই সঙ্গে বিদ্যুত্-জ্বালানিসহ সংশ্লিষ্ট অন্য খাতগুলোতেও ভর্তুকি অব্যাহত থাকছে বলে অর্থমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্রে জানায়, বিদ্যুত্-জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখলেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের জন্য ভর্তুকি কমিয়ে ৮০০ কোটি টাকা রাখা হতে পারে। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে বিপিসির জন্য ভর্তুকি রাখা হয় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। কেননা চলতি বছর সংস্থাটির লোকসান ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে কমায় বছর শেষ হওয়ার আগেই সংস্থাটি লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখেছে। ফলে আগামী বাজেটে বিপিসির ভর্তুকি কমানো হচ্ছে। অন্যদিকে বিদ্যুতে ভর্তুকি বহাল থাকছে। কারণ বিদ্যুতের উত্পাদন খরচ ও বিক্রয় মূল্যের মধ্যে অনেক ফারাক রয়েছে। আগামী বাজেটে ভর্তুকি খাতে ২৬ থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা।
 
বাজেটে ঘাটতি অর্থায়ন
 
সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী বর্তমানে জিডিপির আকার চলতি মূল্যে রয়েছে ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে জিডিপির ৫ ভাগের সমান। এর মধ্যে ৩.২ ভাগ অর্থ দেশীয় উত্স থেকে এবং বাকীটা বৈদেশিক উত্স থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য থাকছে।
 
বাজেটে নতুন বিষয়
 

প্রথম বারের মত শিশু বাজেট দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মোট চারটি মন্ত্রণালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই বাজেট দেয়া হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এই শিশু বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এছাড়া ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। ওইগুলোতে ১৪ হাজার মানুষ বসবাস করেন। তাই ছিটমহলবাসীদের জন্য বিদ্যালয়, রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি নির্মাণে সহায়তা করবে সরকার। বাজেটে এ বিষয়ে কিছু দিকনির্দেশনা থাকছে।