নজরুলের বৈচিত্র্যময় সুর-ঐশ্বর্যের সম্মোহন আর অসামপ্রদায়িক মানবতার বাণী উচ্চারণের মধ্য দিয়ে ছায়ানট পালন করলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী। সাম্যবাদী ও দ্রোহী চেতনার ধারক বাংলাদেশের জাতীয় কবিকে স্মরণ করতে দুদিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথমদিনে গতকাল শুক্রবার তাঁর জীবনবোধ শিল্পীরা গানে, কবিতায় ফুটিয়ে তোলেন।
গিটার হাসতে জানে, কাঁদতে জানে। গিটারের এই আনন্দ-বেদনার খেলাই দর্শকদের হাসালো, কাঁদালো। স্পেনের ফ্লেমেনকো গিটারিস্ট ভিক্টর মঙ্গর অনবদ্য বাদনে ফুটে উঠলো সেই অনুভূতি। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে গতকাল সন্ধ্যায় ‘সিরানিত’ শীর্ষক এই সঙ্গীত সন্ধ্যাটির আয়োজন করা হয়। মিলনায়তনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না এই আয়োজনটি উপভোগ করার জন্য। ভিক্টর মঙ্গর সঙ্গে সহযোগী ছিলেন চেলোতে কেরী রোজা ভেরানা, ভিক্টর আলোজি বেরোজ ও সুলিয়ান ইউকুজরো। গিটারের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে আরো ছিল চেলো এবং পারকাশান যন্ত্র। পুরো সঙ্গীত সন্ধ্যাটিতে ছিল চারটি বিশেষ পরিবেশনা। গিটারের অসাধারণ সব নোটের খেলায় প্রথম পরিবেশনা ছিল ‘তারান্তা’। তারান্তা ফ্লেমেনকো একটি গভীর ধারা। তারান্তের বাণী মাটির গভীর খনিতে করা কঠোর পরিশ্রমের কথা বলে। শিল্পী ভিক্টর মঙ্গর আন্দালুসিয়া ও গুয়াদালকুইভির নদীর কলতান ও খনির গভীরতা উপজীব্য করে তারান্তো তৈরি করেছেন। দ্বিতীয় পর্বের পরিবেশনায় ছিল ‘সোলেয়া’। ফ্লেমেনকোর মধ্যে বেশ প্রাচীন ও প্রতিনিধিমূলক ধারা হচ্ছে সোলেয়া। সোলেয়া থেকে আরো অনেকগুলো ধারা জন্ম নিয়েছে বলে একে বলা হয় ‘লা মাদ্রি দেল কান্তে।’ তৃতীয় পর্বের পরিবেশনার নাম ‘কোমা উন সুয়েনো’। এই ধারাটি বেশ ছন্দময়। গিটারের ছন্দে ছন্দে এখানে রয়েছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। চতুর্থ পর্বের পরিবেশনার নাম ‘রোমান্স পারা উন পোয়েটা’। এটি মূলত বিখ্যাত কবি লোরকার প্রতি উত্সর্গীকৃত।