ছায়ানটে নজরুল জয়ন্তী

নজরুলের বৈচিত্র্যময় সুর-ঐশ্বর্যের সম্মোহন আর অসামপ্রদায়িক মানবতার বাণী উচ্চারণের মধ্য দিয়ে ছায়ানট পালন করলো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী। সাম্যবাদী ও দ্রোহী চেতনার ধারক বাংলাদেশের জাতীয় কবিকে স্মরণ করতে দুদিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথমদিনে গতকাল শুক্রবার তাঁর জীবনবোধ শিল্পীরা গানে, কবিতায় ফুটিয়ে তোলেন।

 
‘অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে’ সমবেত কণ্ঠে এ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উত্সব। এরপরে দলীয় নাচের সঙ্গে শিল্পীরা গেয়ে শোনান ‘সৃজন ছন্দে আনন্দে’। দুদিনব্যাপী নজরুল উত্সবের উদ্বোধন করেন এস এম আহসান মুর্শেদ। স্বাগত কথনে অংশ নেন ছায়ানটের সহ-সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। অনুষ্ঠান শুরুর আগে ছায়ানট ভবনের প্রবেশমুখে প্রদীপ জ্বালিয়ে উত্সবের উদ্বোধন করে ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুনসহ অতিথিবৃন্দ।
 
এরপর একক গান শোনান স্বর্ণা নাগ, শ্রাবন্তী ধর, ধ্রুব সরকার, জান্নাত-ই-ফেরদৌসী লাকী, চট্টগ্রামের শিল্পী ফাহিমদা রহমান, নাহিয়ান দূরদানা, সুমন চৌধুরী, জারিফ ইকরাম, রিফাত আরা তমা, ঐশ্বর্য সমদ্দার, লায়েকা বশির, খালিদ হোসেন, ড. নাশিদ কামাল, ফারহানা আক্তার শ্যার্লি, সুমনা বিশ্বাস, ইয়াকুব আলী খান, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, জগদানন্দ রায়, সাদিয়া শরীফ, ডালিয়া নওশিন, মানস কুমার দাশ, লতিফুন জুলি, কানিজ হুসনা আহম্মদী সিম্পী, তানভীর আহমেদ, ইয়াসমিন মুশতারী ও সঞ্জয় কবিরাজ। সবশেষে সম্মেলক নৃত্য-গীতে ছায়ানটের শিল্পীরা পরিবেশন করে ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ গানটি।
 
গিটারের মূর্ছনায় আনন্দ-বেদনা
 

গিটার হাসতে জানে, কাঁদতে জানে। গিটারের এই আনন্দ-বেদনার খেলাই দর্শকদের হাসালো, কাঁদালো। স্পেনের ফ্লেমেনকো গিটারিস্ট ভিক্টর মঙ্গর অনবদ্য বাদনে ফুটে উঠলো সেই অনুভূতি। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে গতকাল সন্ধ্যায় ‘সিরানিত’ শীর্ষক এই সঙ্গীত সন্ধ্যাটির আয়োজন করা হয়। মিলনায়তনে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না এই আয়োজনটি উপভোগ করার জন্য। ভিক্টর মঙ্গর সঙ্গে সহযোগী ছিলেন চেলোতে কেরী রোজা ভেরানা, ভিক্টর আলোজি বেরোজ ও সুলিয়ান ইউকুজরো। গিটারের সঙ্গে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে আরো ছিল চেলো এবং পারকাশান যন্ত্র। পুরো সঙ্গীত সন্ধ্যাটিতে ছিল চারটি বিশেষ পরিবেশনা। গিটারের অসাধারণ সব নোটের খেলায় প্রথম পরিবেশনা ছিল ‘তারান্তা’। তারান্তা ফ্লেমেনকো একটি গভীর ধারা। তারান্তের বাণী মাটির গভীর খনিতে করা কঠোর পরিশ্রমের কথা বলে। শিল্পী ভিক্টর মঙ্গর আন্দালুসিয়া ও গুয়াদালকুইভির নদীর কলতান ও খনির গভীরতা উপজীব্য করে তারান্তো তৈরি করেছেন। দ্বিতীয় পর্বের পরিবেশনায় ছিল ‘সোলেয়া’। ফ্লেমেনকোর মধ্যে বেশ প্রাচীন ও প্রতিনিধিমূলক ধারা হচ্ছে সোলেয়া। সোলেয়া থেকে আরো অনেকগুলো ধারা জন্ম নিয়েছে বলে একে বলা হয় ‘লা মাদ্রি দেল কান্তে।’ তৃতীয় পর্বের পরিবেশনার নাম ‘কোমা উন সুয়েনো’। এই ধারাটি বেশ ছন্দময়। গিটারের ছন্দে ছন্দে এখানে রয়েছে আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। চতুর্থ পর্বের পরিবেশনার নাম ‘রোমান্স পারা উন পোয়েটা’। এটি মূলত বিখ্যাত কবি লোরকার প্রতি উত্সর্গীকৃত।