বালাকোট থেকে ৩৫টি দেহ সরিয়েছে পাক সেনারা: ফার্স্ট পোস্ট

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোটে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলার কিছুক্ষণ পরই ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৩৫টি মৃতদেহ সরিয়ে ফেলেছিল পাক সেনারা। মৃতদের মধ্যে ছিল জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্য, প্রাক্তন পাক সেনাকর্তা এবং প্রশিক্ষণ নিতে আসা আত্মঘাতী সদস্যরা। পাকিস্তানের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের কাছ থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে এই খবর জোগাড় করেছেন ইতালীয় সাংবাদিক ফ্রান্সেসা মারিনো, তা প্রকাশিত হয়েছে বার্তা সংস্থা ফার্স্ট পোস্টে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালাকোটে হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা মারিনোকে জানান, বোমাবর্ষণের পরই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা। কিন্তু ততক্ষণে ওই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানের সীমানা ভেদ করে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোটে হামলা চালায় ভারতীয় সেনাবাহিনী।  

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পুলিশকেও ঘটনাস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া যারা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসেছিলেন, সেই স্বাস্থ্যকর্মীদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নিয়েছিল পাক সেনারা। 

মারিনোর দাবি, ভারতীয় বোমার আঘাতে নিহত হয়েছে পাক গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর এক প্রাক্তন অফিসার, যাকে কর্নেল সেলিম  বলে জানে স্থানীয় বাসিন্দারা। গুরুতর আহত হয়েছে আর এক প্রাক্তন সেনাকর্তা কর্নেল জারার জাকরি। 

ফার্স্ট পোস্টের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর ওই হামলায় নিহত হয়েছে পেশোয়ার থেকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিতে যাওয়া জইশ জঙ্গি মুফতি মইন। মারা গিয়েছে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আই-ই-ডি)ফেব্রিকেশনে অন্যতম সেরা জইশ বিশেষজ্ঞ উসমান গনি-ও।

এছাড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালাকোটের জাব্বা টপের ঠিক নীচেই একটি কাঠ ও মাটি দিয়ে বানানো কাঁচা বাড়ি ভারতীয় বিমান বাহিনীর বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়াতেই সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জইশ শিবির, এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা।  

অন্যদিকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর দাবি, হামলায় তারা যা করতে চেয়েছিলেন, তা করতে পেরেছেন। এছাড়া তাদের দাবি, জইশ শিবিরে কতটা ক্ষতি হয়েছে সেই তথ্যপ্রমাণ তাঁদের হাতে আছে। সময় হলেই তা সামনে আনা হবে বলে জানিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাকর্তারা। 

আরো পড়ুন: সবচেয়ে ‘বিপজ্জনক’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প: স্যান্ডার্স 

তবে পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় বিমান বাহিনীর হামলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলায় শুধু কয়েকটি পাইন গাছ উপড়ে পড়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের। তথ্য সূত্র: ফার্স্ট পোস্ট, আনন্দবাজার। 

ইত্তেফাক/এসআর