সেরা দশে/বিশে থাকার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এমন অভিযোগ এনে পরবর্তীতে ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এদিকে শিক্ষকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পাবলিক পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) পদ্ধতি তুলে দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিব। তাদের মতে, অসত্ উপায়ে এমসিকিউতে ৪০ নম্বর পাওয়া সহজ হয়ে যাচ্ছে। আগামীতে এ পদ্ধতির বিষয়ে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বগুড়ার আমতলী বিদ্যালয় এবং ঢাকার বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এমসিকিউ প্রশ্ন বাইরে পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, সেরা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় টপে রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী এসব উদাহরণ টেনে বলেন, কিছু শিক্ষক সিলগালা করা এমসিকিউ প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর আগেই হলের বাইরে পাঠিয়ে দেয়ায় শিক্ষার্থীরা সহজেই পুরো নম্বর পেয়ে যাচ্ছে। এটা হতে পারে না। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কতিপয় শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ড পুরো শিক্ষক সমাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এরা প্রকৃত শিক্ষক নয়, এরা ধান্দাবাজ, সুবিধাভোগী।
সেরা প্রতিষ্ঠান বলতে কিছু থাকবে না
সেরা দশে/বিশে থাকার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এমন অভিযোগ দেখিয়ে পরবর্তীতে ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে সেরা প্রতিষ্ঠান তালিকা তৈরি করা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, স্কুলগুলোর মধ্যে যাতে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এমন উদ্দেশ নিয়ে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সেরা তালিকায় থাকার জন্য কেউ কেউ অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করছে। মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে টপটেন বা টপ-টোয়েন্টি বলে আর কোন ব্যবস্থা থাকবে না। তবে যারা ভাল ফল করবে তাদের অন্যভাবে প্রশংসিত করা হবে।
এসএসসির এবারের ফলাফলে ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আরো অনেকেই সন্দেহের তালিকায় আছে। আপাত দৃষ্টিতে তারা প্রথম হয়েছে বলেই ধরে নিচ্ছি। যেহেতু আপনারা প্রশ্ন তুলেছেন আমরা খোঁজ নেব।
গত কয়েক বছর আগে থেকে জাতীয় পর্যায়ে বোর্ডগুলো আলাদা আলাদাভাবে সেরা ২০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাই করে আসছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে ফলাফলের ভিত্তিতে সেরা ১০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হতো। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, পাসের হার, জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ পাঁচটি সূচকে এসব প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হতো।