ধস ঠেকাতে বালু ফেলা ছাড়া উপায় নেই

নির্মাণাধীন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ‘এনবিএল টুইন টাওয়ার’ নির্মাণস্থলে নতুন করে যাতে ধস না হয় সেটা ঠেকাতে বালু ফেলা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে ৩০টি ডাম্পিং ট্রাক দিয়ে বালু ভরাটের কাজ অব্যাহতভাবে করছে সিটি করপোরেশন ও ন্যাশনাল ব্যাংক। এখন শঙ্কা একটু কমেছে বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সেটা পুরোপুরি নয় বলেও জানান তারা।

 
শুক্রবার গভীর রাতে নির্মাণাধীন ভবনের উত্তর কোণ ফের ধসে পড়ে। এই নিয়ে নির্মাণস্থলে চার দফা ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাতেই গর্তটি বালু দিয়ে ভরাট করে দেয়া হয়। ফের এই ঘটনার জন্য শনিবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। সাঈদ খোকন বলেন, অনেক আগে এখানে বর্জ্য খাল ছিল। সেটি ভরাট করে যখন এতবড় স্থাপনা গড়ে তোলার অনুমতি চাওয়া হয়, রাজউকের উচিত ছিল তখনই এর নির্মাণ বন্ধ করে দেয়া; কিন্তু তা তারা করেনি, অনুমোদন দিয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকও এই দায় এড়াতে পারে না।
 
ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হুদা খান বলেন, স্থান ঝুঁকিমুক্ত করা ও যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব ভরাট করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী আনসার আলী খান বলেন, শুক্রবার রাতে নতুন করে ধসে পড়েছে উত্তর পাশের একটি অংশ। বালু ভরাট করা ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে ধস রোধ করা সম্ভব নয়।
 
বালু ভরাট ও অন্যান্য কাজের তদারকিতে নিয়োজিতরা জানিয়েছেন, আপাতত হোটেল সুন্দরবনের কোনো সমস্যা নেই। ফাউন্ডেশনের কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা এখন চারপাশের রাস্তা ও অন্যান্য স্থাপনা যেন এ ধসে না পড়ে তার চেষ্টা করছি। অন্যদিকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বালু ফেলা হলে উত্তর পাশের রাস্তা ঝুঁকিমুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান। শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে তিনি একথা জানান। তিনি বলেন, পূর্ব ও উত্তর পাশে বালু ফেলায় পাশগুলো এখন ঝুঁকিমুক্ত। এখন উত্তর পাশে বালু ফেলা হচ্ছে। সারাদিন ও রাত বালু ফেলা হলে আশা করি ঝুঁকিমুক্ত হবে।
 
বালু ফেলা ছাড়া ঝুঁকি কমানোর বিকল্প পদ্ধতি আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান বলেন, রিটার্নিং ওয়াল দিতে পারলে ঝুঁকি কমে যেত। তবে সমস্যা হচ্ছে কংক্রিট শক্ত হতে ৫ থেকে ৭ দিনের মতো সময় লাগে। তাই ঝুঁকি কমাতে এখন বালু ফেলাই প্রয়োজন।
 
এঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এ প্রশ্নের জবাবে রাজউকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, নির্মাণ সংশ্লিষ্ট দুইজন ও ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া রাজউকের যে কর্মকর্তারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
 

এদিকে এই ঘটনায় আইএসআই ও জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহের কথা জানিয়েছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে সফরকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে পান্থপথের রাস্তা দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাওয়ার      কথা। সে হিসেবে পূর্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমনটি কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ আগমনের ১০ দিন আগে এমন ঘটনা ঘটলো।