কোম্পানির করহারে বড় পরিবর্তন আসছে

আসছে বাজেটে কোম্পানির কর্পোরেট করহারের কয়েকটি স্তরে পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত এমন দুই ধরনের স্তরের কর্পোরেট করহার কমলেও অন্য একটি স্তরে বাড়তে পারে। শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত এমন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করহার বিদ্যমান সাড়ে ৪২ শতাংশ থেকে কমে ৪০ শতাংশ এবং সাড়ে ২৭ শতাংশ স্তরের করহার কমে ২৫ শতাংশ হতে পারে।

 

অন্যদিকে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত সিগারেট প্রস্তুতকারী কোম্পানির করহার ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৫ শতাংশ হতে পারে। আগামী ৪ জুন সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে পারেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এর বাইরে কর্পোরেট করের অন্যান্য খাতে তেমন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

 
কর্পোরেট করহার কমিয়ে আনার জন্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা বলছেন, বাংলাদেশের ন্যায় এত বেশি করহার প্রতিবেশী দেশগুলোতে নেই। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কর্পোরেট করের অত্যধিক হার অন্যতম বাধা। অর্থমন্ত্রী নিজেও অত্যধিক কর্পোরেট করহারের বিষয়টি উপলব্ধি করেছেন। সম্প্র্রতি একাধিক বক্তৃতায় তিনি এ করহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
 
পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালও গতকাল  শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোপলিটন চেম্বারে সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় করহার কমানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, আমি বার বার বলে আসছি করহার কমানোর জন্য। করহার কমিয়ে আওতা বাড়ানো গেলে রাজস্ব আদায় কমবে না, বরং বাড়বে। প্রতিবেশী দেশ ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে করহার অনেক কম। কিন্তু তাদের রাজস্ব আদায় কমেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
 
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বিল্ড’ সমপ্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে অন্যান্য প্রতিবেশী ও প্রতিযোগী দেশের কর্পোরেট করহারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেছে। তাতে দেখা গেছে, বাংলাদেশে কর্পোরেট করহার অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হওয়ার পরও জিডিপিতে রাজস্বের অবদান কম। দেশে কর্পোরেট করের সর্বোচ্চ স্তর ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে ভারতে এটি প্রায় ৩৪ শতাংশ, পাকিস্তানে ৩৫ শতাংশ, কম্বোডিয়ায় ২০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ২৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৫ শতাংশ, ফিলিপাইনে ৩০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১৭ শতাংশ।
 
অবশ্য গত বছরের বাজেটে কর্পোরেট করহারে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ওই বাজেটে শেয়ারবাজারে নিবন্ধিত নয় এমন কোম্পানির করহার সাড়ে ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছিল। বর্তমানে নিবন্ধিত কোম্পানির করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থাকলেও ৩০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ দেয় এমন কোম্পানির ১০ শতাংশ হারে কর রেয়াত পায়। সেক্ষেত্রে এ ধরনের কোম্পানির করহার দাঁড়ায় পৌনে ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানির ক্ষেত্রে এ করের হার ৩৫ শতাংশ।
 

এছাড়া ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করহার সাড়ে ৪২ শতাংশ, মার্চেন্ট ব্যাংকের সাড়ে ৩৭ শতাংশ, শেয়ারবাজারে অনিবন্ধিত সিগারেট কোম্পানি ও মোবাইল ফোন কোম্পানির কর ৪৫ শতাংশ। অবশ্য মোবাইল ফোন কোম্পানির অন্ততপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে স্থানান্তর করলে করহার ৪০ শতাংশ, আর পরিশোধিত মূলধনের ২০ শতাংশের বেশি আইপিও’র (প্রাথমিক গণপ্রস্তাব) মাধ্যমে হস্তান্তর করলে সেক্ষেত্রে করের হার ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে কোম্পানির লাভ-লোকসান যাই হোক ৫০ লাখ টাকার বেশি প্রাপ্তি হলে তার উপর দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কর বিদ্যমান রয়েছে।