জ্বালানি, বিদ্যুত্ ও চামড়া খাতে বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশের জ্বালানি, বিদ্যুত্ ও চামড়া খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করার আকর্ষণীয় সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশও উপকৃত হবে, বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হবেন। তাই এসব খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসতে পারেন।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দূতাবাসের কূটনীতিকদের সাথে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “বাংলাদেশ ২০৩০: নেক্সট বিলিয়ন ডলার অপরচুনিটিজ” বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

 
রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, এমপি প্রধান অতিথি ছিলেন। ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি)-বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ শিপ বিল্ডার্স এসোসিয়েশনে সভাপতি কে এম মাহমুদ-উর রহমানসহ ডিসিসিআইয়ের পরিচালকবৃন্দ। কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন ইয়াং এবং পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলম। এছাড়া ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, রাশিয়া, তুরস্ক, লিবিয়া এবং বৃটেনের কূটনীতিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
 
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, চলতি বছরে বাংলাদেশের রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হবে। বিদ্যুত্ ও জ্বালানিসহ নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং অন্যান্য খাত ক্রমান্বয়ে উন্নতি করছে। বিনিয়োগের জন্য জমি স্বল্পতার বিষয়টি স্বীকার করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, মুন্সীগঞ্জে তৈরি পোশাক খাতের জন্য একটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপন করা হবে। এছাড়া সরকার সারাদেশে ১৭টি ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
 
ডিসিসিআই সভাপতি হোসেন খালেদ বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার জন্য জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান ২৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। আর ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে পৃথিবীর ৩০তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে হলে প্রবৃদ্ধি হার ৬ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এজন্য জিডিপিতে বিনিয়োগের অতিরিক্ত অবদান ১৪ শতাংশ বাড়াতে হবে। বিনিয়োগের খাত সম্পর্কে আইসিসি-বাংলাদেশ এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বেশি হারে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে বিদ্যুত্ সমস্যা মোকাবেলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের দিকে অগ্রসর হওয়া প্রয়োজন। আর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। এমসিসিআই সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, সারাবিশ্বের চামড়া শিল্পের বাজার মূল্য ২১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে বাংলাদেশের চামড়া খাত মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ মূল্যের চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে। ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
 

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে আশানুরূপ উন্নয়ন না হওয়ায় আমাদের অর্থনীতির উন্নয়ন প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নের জন্য সরকারকে হাইওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে, রেলযোগাযোগ, গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপন, এসইজেড ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান। তিনি এসব খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য পিপিপি’র পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অন্যান্য বিনিয়োগ মডেল দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেন।