২০১৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডে এবার সেরা হয়েছে ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ। দ্বিতীয় রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এবং তৃতীয় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ। এছাড়া চতুর্থ হয়েছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, পঞ্চম টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ষষ্ঠ মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল, সপ্তম টঙ্গীর সফিউদ্দীন সরকার একাডেমি, অষ্টম ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, নবম ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজ এবং দশম ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ : মাঠ জুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস জানান দেয় তারা মেধা তালিকায় তৃতীয় হয়েছে। যদিও গতবার তারা দ্বিতীয় ছিল, তারপরও আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভাটা নেই। গতবারের চেয়ে একধাপ পেছালেও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফলাফলে সন্তুষ্ট বলে জানান। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক বৈরী পরিবেশের কারণেই শিক্ষার্থীদের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এতেই একধাপ পেছাল তার প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করা এই স্কুলের ১৫৮১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। যাদের মধ্যে ১৫৭৮ জন কৃতকার্য হয়। তিনজন অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়ায় ৯৯ .৮১ শতাংশ।
এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে ১৩৪৬ জন অংশগ্রহণ করে কৃতকার্য হয় ১৩৪৪ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পায় ১২৯১ জন। আর হিসাব বিজ্ঞান শাখায় ২৩৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয় ২৩৪ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পায় ১৩৫ জন।
গতবছর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৪০৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সকলে কৃতকার্য হয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। তার আগের বছর অর্থাত্ ২০১৩ সালে এই প্রতিষ্ঠান সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিল। ধারাবাহিকভাবে ফলাফল একধাপ পেছালে কারণ সম্পর্কে অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশ শিক্ষার পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং আমরা শিক্ষকরাও পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। আবার প্রত্যেক বছরে কিন্তু একই রকম মেধাবী শিক্ষার্থী থাকে না। তারপরও আমরা ধারাবাহিকভাবে ভাল ফলাফল করি। যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।
ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ : বাদ্য বাজছে। বাদ্যের সাথে তাল রেখে যেন উচ্ছ্বাস বাড়ছে। প্রচণ্ড গরম আর রোদকে উপেক্ষা করে ঘেমে যেয়েও পরম আনন্দে সফল হওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে মেধা তালিকায় চতুর্থ হওয়া ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। হাসি মুখ নিয়ে একজন অন্যজনকে জড়িয়ে ধরছে। প্রশ্ন করে জেনে নিচ্ছে বন্ধুও জিপিএ-৫ পেয়েছে কিনা। জানার সাথে সাথে আনন্দ-চিত্কার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মাঠের একপাশ থেকে অন্যপাশ।
গতবছর এই প্রতিষ্ঠান তৃতীয় অবস্থানে ছিল। তার আগের বছর ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। এবছর প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৫০৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৫০১। এবছর স্কুলের বিজ্ঞান শাখা হতে ১ হাজর ২৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ২৫৭ জন জিপিএ-৫ পায়। মানবিক শাখায় ২০ জন শিক্ষার্থীর ৩ জন জিপিএ-৫ আর ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২০৭ জনের মধ্যে ৩০ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে।
ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জু আরা বেগম বলেন, আমার জানা মতে ঢাকা বোর্ডের ভালো ভালো অনেক স্কুল ও কলেজে মানবিক শাখা নেই। মানবিক শাখা থাকায় আমাদের ফলাফল একটু পিছিয়ে গেছে।
মিথিলা, তাহনিন, রাইসা সকলেই ভিকারুন নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের জিপিএ-৫ পাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের বিশেষ যত্নে আর অভিভাবকের সহযোগিতায় এই ফলাফল। অভিভাবক কামরুন নাহার বলেন, সন্তানের পরীক্ষায় তার নিজের পরীক্ষার মতোই টেনশন হতো। আজ মেয়ের ভাল ফলাফল যেন নিজেরই অনেক প্রত্যাশার ফল।
বিন্দুবাসিনী গভঃ বালক উচ্চ বিদ্যালয় : ঢাকা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়। এবছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৭৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। পাস করেছে সবাই। উত্তীর্ণদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩০ জন।
মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল : সম্মিলিত মেধা তালিকায় ষষ্ঠ স্থান দখল করেছে মতিঝিল গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল। এ বছর স্কুলটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪১৫ জন। পাস করে সবাই। পাসের হার শতভাগ। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক হাজার ৩৪১ জন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, নিয়মিত লেখাপড়া ও শৃঙ্খলার কারণেই বিগত দিনের মত এ বছরও ফলাফল ভালো হয়েছে। বিগত দিনেও এই স্কুলের ছাত্ররা পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের সুনাম ধরে রেখেছে। তিনি বলেন, স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের অক্লান্ত শ্রমের ফলেই প্রতি বছর স্কুলটির ফলাফল ভালো হয়।
সফিউদ্দীন একাডেমি : ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সম্মিলিত মেধা তালিকায় সপ্তম স্থান অধিকার করেছে টঙ্গীর সফিউদ্দীন সরকার একাডেমি। স্কুলটির পাসের হার শতভাগ। এ বছর মোট ৫৩৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২৬ জন। স্কুলের এ ফলাফলের মূলে রয়েছে স্কুলের অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রশাসন, সুযোগ্য নেতৃত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা আনন্দিত। একাধিক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকদের প্রতিটি শিক্ষার্থীর বিষয়ে বিশেষ নজর দেয়াতে ফলাফল আশানুরূপ হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলেছেন, প্রশংসনীয় ফলাফলের পেছনে রয়েছে সুযোগ্য নেতৃত্ব ও নিবিড় তত্ত্বাবধান। শিক্ষার্থীদের পাঠোন্নতির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছাত্রদের বিশেষ যত্ন ইত্যাদি বিষয় ছাড়াও ছাত্রদের নিষ্ঠা ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে সহায়ক হয়েছে।
ময়মনসিংহ জিলা স্কুল : ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে ২৭৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে পাস করেছে ২৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪৯ জন। ঢাকা বোর্ডের এই স্কুলটি এবার অষ্টম স্থান অর্জন করেছে।
ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ : ঢাকা রেসিডেনসিয়াল কলেজ থেকে ৫১৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের ৫১৪ জনই পাস করেছে। ৩৮৫ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডের এই স্কুলটি এবার নবম স্থানে আছে।
ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ : ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের সবাই পাস করেছে। স্কুলটির পাসের হার শতভাগ। ৫০ জনই জিপিএ-৫ পেয়েছে। সাফল্যের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডের এই প্রতিষ্ঠানটি এবার দশম স্থান অর্জন করেছে।