শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্যশস্য উত্পাদনে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সম্প্রতি চাল রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ চাল রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সামাজিক অগ্রগতির অনেক সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে।’ দক্ষিণ এশিয়া খাদ্য অধিকার সম্মেলন-২০১৫ উপলক্ষে আয়োজিত ‘খাদ্যের অধিকার: বাংলাদেশ পরিস্থিতি’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এ সব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে রবিবার এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
আমির হোসেন আমু বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের পরিমাণ ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। ইতোমধ্যে চরম দারিদ্র্যের পরিমাণ ১১ শতাংশ কমার পাশাপাশি দারিদ্র্যের হার ৩১.৫ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০১৮ সালের এটি ১৪ শতাংশে নেমে আসবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন—দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ ছাড়া, বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত খাদ্য সংরক্ষণের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। চাল উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার ফলে বাংলাদেশে প্রতিবছর আড়াই শতাংশ হারে চালের চাহিদা বাড়ছে। নিজস্ব উত্পাদন থেকে এ বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে হলে চাল উত্পাদনও একই হারে বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে ক্ষুধা ও মঙ্গা বিদায় নিলেও দারিদ্র্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তারা দারিদ্র্য দূরীকরণে এলাকা-ভিত্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা প্রদানের পরামর্শ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক এ বি এম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক, ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্স ইন্সটিটিউটের সাবেক বাংলাদেশ কান্ট্রি প্রধান ড. জয়নুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ।