জাতীয় বাজেট বিষয়ে ১১ দফা সুপারিশ টিআইবির

 
 
বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, উন্মুক্ততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১১ দফা সুপারিশ উত্থাপন করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কৃচ্ছতা, দক্ষতা ও কার্যকরতার মাধ্যমে জনগণের অর্থের সর্বোৎকৃষ্ট সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনটি। রবিবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।
 
এ বিষয়ে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় বাজেট রাষ্ট্র ও সরকারের নীতি কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া অপরিহার্য। বর্তমান সরকার প্রণীত সকল উল্লেখযোগ্য নীতিমালার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার। এক্ষেত্রে বাজেট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিত করা ছাড়া কাঙ্খিত টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।
 
তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে, কিন্তু দারিদ্র্য, বৈষম্যের শিকার ও সুবিধা-বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে আসন্ন ২০১৫-১৬ জাতীয় বাজেটে অধিকতর প্রাধান্য দিতে হবে। বিশেষ করে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, নারী-শিশু-যুব উন্নয়ন, ধর্মীয়, নৃতাত্ত্বিক সংখ্যালঘু ও প্রতিবন্ধী এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকির মুখোমুখি জনগোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
 
টিআইবি’র পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সুপারিশসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:জাতীয় ও স্থানীয় বাজেট নির্ভর সকল প্রকার সরকারি ক্রয়, কর সংগ্রহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রমে একটি সমন্বিত অনলাইন ভিত্তিক পরিবীক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা; জাতীয় বাজেটের সকল তথ্য স্বপ্রণোদিত, পরিপূর্ণ, নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা, বিশেষত প্রতিরক্ষাসহ যেকোনো খাতের ক্ষেত্রে এই নীতির ব্যতিক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থী; বাজেট বক্তৃতায় সরকারি ব্যয়, ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিশেষ আইন প্রণয়ণের প্রস্তাব থাকা এবং থোক বরাদ্দ নিরুত্সাহিত করে সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচী/প্রকল্পে অগ্রাধিকার প্রদান এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
টিআইবি’র ১১ দফা সুপারিশ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।