ডিএসইতে হাজার কোটি টাকার লেনদেন

 
সাত মাস পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে ডিএসইর লেনদেন বেশিরভাগ সময়ই তিনশ’ কোটি টাকার নিচে হয়েছে। লেনদেন কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমার পাশাপাশি বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বেশ বিপাকে পড়ে যায়। এ অবস্থায় লেনদেন হাজার কোটি টাকায় উঠে আসা বাজারের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। সোমবার ডিএসইতে লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি সূচকও বেড়েছে।
আইডিএলসির দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দিনের শুরুতে বড় আশাবাদ নিয়ে লেনদেন শুরু হয়। ফলে দিনের শুরুতেই ডিএসইর সার্বিক মূল্য সূচক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে পরবর্তীতে এ ঊর্ধ্বমূখী প্রবণতা কিছুটা স্তিমিত হয়ে আসে। তবে লেনদেন হয়েছে বছরের সর্বোচ্চ। লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল জ্বালানি খাতের। 
লেনদেনের শীর্ষে থাকা ৫ কোম্পানিই ছিল এ খাতের। জ্বালানি খাতে মোট ২৭১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৮ শতাংশেরও বেশি। ওষুধ ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে লেনদেন হয়েছে ২৯৩ কোটি টাকা। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩১ শতাংশ। আর বাজারে দাম বাড়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল সিমেন্ট, ব্যাংক এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
 
তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৬২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১০০২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ২১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা বেশি। 
লেনদেনকৃত ৩১৯টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬৯টির, কমেছে ১১৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ২৫২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৭৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যা আগের কর্মদিবসের চেয়ে ১৮ কোটি টাকা কম। লেনদেনকৃত ২৪১টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৯টির কমেছে ৯১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩১টি কোম্পানির শেয়ারের।
ডিএসই জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কোম্পানি সামিট পূর্বাচল পাওয়ার কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ার কোনো কারণ নেই। শেয়ারটির অস্বাভাবিক দর বাড়ার কারণ জানতে চেয়ে পাঠানো নোটিশের প্রেক্ষিতে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। 
 গত ১ মাসে এ শেয়ারটির দর ৪৩ টাকা ৯০ পয়সা  থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত হয়। অর্থাত্ শেয়ারটির দর বেড়েছে প্রায় ২২ টাকা ৮০ পয়সা বা ৫২ শতাংশ।