সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী শক্তি ও ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

দেশের কিভাবে উন্নয়ন হবে, এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে উদ্ভাবনী শক্তি ও ধারণা নিয়ে কাজ করার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আজ রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস প্রশাসন একাডেমী আয়োজিত ৯২তম ও ৯৩তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সেবক বলে স্মরণ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২১(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘সকল সময়ে জনগণের সেবা করার চেষ্টা করা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য।’ তিনি বলেন, ‘আপনারা যে যেখানেই কাজ করবেন, আপনাদের সামনে থাকবে শুধু বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষ। আপনাদের প্রিয় মাতৃভূমির ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হবে। জানতে হবে আমাদের পূর্বসূরিরা কি অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করে এ দেশকে স্বাধীন করেছেন।’
শেখ হাসিনা বলেন, কোন এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ওপর। তাদের মনে রাখতে হবে, রুটিন কাজ করাই যথেষ্ট নয়। মাঠ পর্যায়ে যারা কাজ করেন,তাদের উদ্ভাবনী শক্তি থাকতে হবে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় খুঁজে বের করতে হবে। দেশের কিভাবে উন্নয়ন করা যেতে পারে, এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদেরকে কাজ করতে হবে।
শেখ হাসিনা সিভিল সার্ভিসের সদস্যদের জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্রশিক্ষণের শেষ দিনে নেয়া শপথ স্মরণ রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী এর আগে দুটি কোর্স সফলভাবে সমাপ্তকারী ১৫৯ জনের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন। এ ছাড়াও কোর্সে অসাধারণ নৈপূণ্য প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ৯২তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের রেক্টর এ্যাওয়ার্ড জান্নাতুল ফেরদৌস এবং ৯৩তম আইন ও প্রশাসন কোর্সের রেক্টর এ্যাওয়ার্ড সৈয়দ আশরাফুজ্জামানকে প্রদান করেন।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদিক এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিসিএস প্রশাসনের রেক্টর সোহরাব হোসেন।
অনুষ্ঠানে রেকটর এ্যাওয়ার্ড বিজয়ী জান্নাতুল ফেরদৌস ও সৈয়দ আশরাফুজ্জামান কোর্সের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ধ্বংসস্তুপ থেকে দেশকে তুলে এনে একটি দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন। তবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলে থেমে যায় বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকা। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর আমরা দেশের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন শুরু করি। খাদ্য ঘাটতির বাংলাদেশকে আমরা খাদ্য উদ্বৃত্তের বাংলাদেশে পরিণত করি। শিক্ষার হার, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ, রফতানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ প্রতিটি খাতে আমরা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হই।
শেখ হাসিনা বলেন, গত সাড়ে ৬ বছরে প্রতিটি ক্ষেত্রে অসামান্য উন্নয়নের সুবাদে আমরা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছি। জিডিপি হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৫১ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ১৩ শতাংশ থেকে ৬.৩ শতাংশে কমিয়ে এনেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনমাস জুড়ে বিএনপি’র হরতাল ও অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি না থাকলে চলতি বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ দাঁড়াতো।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের নেতৃত্বে মাঠ ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ইনোভেশন টিম গড়ে তোলা হয়েছে। এ টিম জনগণকে স্বল্প সময়ে, কম ব্যয়ে এবং বিনা ভোগান্তিতে সেবা দিচ্ছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এটুআই থেকে প্রদান করা হচ্ছে ইনোভেশন ফান্ড।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সরকার ‘জনপ্রশাসন পদক নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
গত সাড়ে ৬ বছরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতো অধিক সংখ্যক পদোন্নতি অন্য কোন সরকারের সময় দেয়া হয়নি।
পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে উপ-সচিব থেকে তদুর্ধ্ব ৩২৫টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে সবাইকে খুশী করা না গেলেও ভবিষ্যতে যাতে কেউ বঞ্চিত না হন সে বিষয়ে মনোযোগ দেয়া হবে।
শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁর সরকারের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ মামলায় বিজয় অর্জন, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি এবং পার্বত্য শান্তি চুক্তির পাশাপাশি ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তির অনুমোদন তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্য।