বাসে পেট্রোলবোমায় দগ্ধ ৭, দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

 
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় সাত যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপজেলা গেট ও পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে হামলার ঘটনায় স্থানীয় এক জামায়াত নেতাকে  আটক করেছে পুলিশ।  তার নাম মাও. রফিকুল ইসলাম (৪২)। তিনি  বরকামতা ইউনিয়ন জামায়াত আমীর। তবে পুলিশ আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি। 
 
 
আহতরা হলেন- রাঙ্গামাটি জেলার সুধির চন্দ্র নাথের ছেলে সুমন চন্দ্র নাথ (২৪) ও গোপালগঞ্জ সদর এলাকার সায়দুর রহমান এর ছেলে ইমরান মিয়া (২৮), রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষক সঞ্জিত শর্মা, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের উপদেষ্টা অঞ্জন কুমার দে (৪০), নারায়ণগঞ্জের জহিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী লাভলী আক্তার ও রাঙ্গামাটির খোকন চাকমা।
 
গুরুতর দগ্ধ দুইজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের পাঠানো হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিত্সা দেয়া হয়েছে।
 
গাড়িচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের বাসটি চান্দিনা বাস স্টেশন অতিক্রম করে পাট গবেষণা কেন্দ্রের সামনে পৌঁছার পরপরই গাড়িতে বিকট শব্দ হয় এবং আগুন জ্বলতে শুরু করে। পরে হেলপারদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
 
বোমায় গাড়ির সামনের অংশের বাম দিকের ২টি সিটে আগুন ধরলে ওই সিটের দুই যাত্রী বেশি দগ্ধ হন। দ্রুত নামতে গিয়ে আহত হন আরো পাঁচজন।
 
চান্দিনা থানার ওসি রসুল আহমেদ নিজামী জানান, বিষয়টি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা যান্ত্রিক ত্রুটি বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় এ ঘটনায় ঘটেছে।
 
খবর পেয়ে ডিজিএফএই কর্নেল একেএম নাজমুল হাসান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন, হাইওয়ে পুলিশ (বাংলাদেশ পূর্বাঞ্চল) রেজাউল কবির, র‌্যাব-১১ এর কোম্পানি কমান্ডার খুরশিদ আলম, চান্দিনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
 
 পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ  বিকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর হোসেনকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  কমিটির অপর ২ সদস্য হচ্ছেন সহকারী  সহকারি পুলিশ সুপার (সদর-এ-সার্কেল) ইমতিয়াজ মাহবুব এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের ওসি একেএম মনজুর আলম।
 
এর আগে একই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. গোলামুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন পৃথক দুটি কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।