শাহ্জীবাজার শেয়ার কারসাজি: জড়িতদের ৫ কোটি টাকা জরিমানা

 
 
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহ্জীবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (এসপিসিএল) শেয়ার কারসাজিতে জড়িত থাকার দায়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের এক সভায় জড়িতদের জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
 
বিএসইসি জানিয়েছে—এসপিসিএলের শেয়ারের মূল্য কারসাজির প্রেক্ষিতে বিশদ তদন্ত করা হয়েছে। এতে নানা ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছে। অনিয়ম করায় প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টসহ ৯ প্রতিষ্ঠান এবং ৮ ব্যক্তিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া কমিশন সভায় ‘বিকল্প বিনিয়োগ’ আইনের খসড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (অলটারনেটিভ ইনভেস্টম্যান্ট) রুলস, ২০১৫ এর খসড়া কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খসড়ার বিষয়ে জনমত যাচাইয়ে অচিরেই এটি ইংরেজি ও বাংলা পত্রিকায় এবং কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
 
বিএসইসি জানিয়েছে—মিথ্যা তথ্য-সংবলিত নিট ক্যাপিটাল ব্যালেন্স তৈরি, গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে বেআইনিভাবে অতিরিক্ত শেয়ার ক্রয়, অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান, সম্মিলিত গ্রাহক হিসাবের অর্থ ব্যবহার এবং বিভিন্ন পক্ষকে এসপিসিএলের শেয়ার ক্রয়ে বিভিন্ন পক্ষকে সম্পৃক্ত করে শেয়ারটির কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করায় প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিজকে আড়াই কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া, যেসব আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা আগামী তিন মাসের মধ্যে পরিপালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 
অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান, সম্মিলিত গ্রাহক হিসাবের অর্থ ব্যবহার এবং এসপিসিএলের শেয়ার ক্রয়ে বিভিন্ন পক্ষকে সম্পৃক্ত করে শেয়ারটির কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করায় পিএফআই সিকিউরিটিজকে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান এবং এসপিসিএলের শেয়ার ক্রয়ে বিভিন্ন পক্ষকে সম্পৃক্ত করে শেয়ারটির কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করায় প্রাইম ফাইনান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
 
অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান করায় এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেস লিমিটেডকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
 
অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান এবং ডিলার, বিনিয়োগকারীদের হিসাব ও মার্জিন হিসাবে তাদের নিট অ্যাভারেজ ক্যাপিটাল ব্যালেন্সের শতভাগেরও বেশি এসপিসিএলের শেয়ার ক্রয় করায় শার্প সিকিউরিটিজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
 
অতিরিক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান করায় বিএলআই ক্যাপিটালকে ১ লাখ টাকা এবং এসপিসিএলের শেয়ারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখায় জিটিএলকে ৫ লাখ টাকা ও লিব্রা ট্রেডিং করপোরেশনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
 
এসপিসিএলের শেয়ার সংকটে ভূমিকা রাখায় শার্প সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী গোলাম মহিউদ্দিনকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও শেয়ার সংকটে ভূমিকা রাখায় প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজের সিইও আবুল কালাম ইয়াজদানী, বিনিয়োগকারী গোলাম মোস্তফা, নাসিমা আক্তার লতা এবং প্রাইম ইসলামী সিকিউরিটিজের কর্পোরেট গ্রাহক স্টার শেয়ারবাজার লিমিটেডের বিরুদ্ধে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
 
বিএসইসি আরো জানিয়েছে—এসপিসিএলের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক বিবরণীতে বাংলাদেশ একাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড পরিপালন না করায় কোম্পানির সিএফও কে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারি লিমিটেড (এসপিসিএল কর্তৃক ৯৮ ভাগ শেয়ারধারণকারী প্রতিষ্ঠান) পুঁজি উত্তোলনের আবেদনে নগদে পুঁজি উত্তোলনের প্রস্তাব করলেও পরবর্তীতে নগদ ও ঋণ সমন্বয়ের মাধ্যমে পুঁজি উত্তোলন করে আইন অমান্য করেছে।
 

এ ছাড়া, কোম্পানিটি অনুমোদিত সময়ের মধ্যে পুঁজি উত্তোলন না করে পরে উত্তোলন করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত ঋণের সুদ যথাযথভাবে না ধরে অতিরিক্ত মুনাফা দেখিয়েছে যা এসপিসিএলের সমন্বিত আর্থিক হিসাবেও প্রতিফলিত হয়েছে। এতে এসপিসিএলের ইপিএস অতিরিক্ত দেখানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে পেট্রোম্যাক্সের প্রত্যেক পরিচালককে (স্বতন্ত্র পরিচালক ছাড়া) ১০ লাখ টাকা এবং এমডিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।