অপরাধ দমনে প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে ভারত

তথ্য ও প্রযুক্তি খাত ব্যবহার করে অপরাধ দমনে বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে ভারত। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ দমন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে দেশটি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন ঢাকা সফরে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ১০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ কিনবে ভারত। এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। ব্যান্ডউইথ রফতানি করে বছরে সাড়ে ৯ কোটি টাকা আয় করবে বাংলাদেশ। 

 
জানা গেছে, সাইবার অপরাধ দমনে সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে একটি ইন্টারনেট টেকনোলজির (আইটি) উপর গবেষণাগার স্থাপন করা হচ্ছে। যার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে ভারত। নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে এই বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। সবকিছু ঠিক থাকলে ভিডিও করফারেন্সের মাধ্যমে সারদার পুলিশ একাডেমিতে আইটি গবেষণাগারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেন নরেন্দ্র মোদী।
 
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, তথ্য ও প্রযুক্তির যুগে অপরাধের বহুমাত্রিক প্রয়োগ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সারদার আইটি গবেষণাগার থেকে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা পাওয়া যাবে। অপরাধী দেশের বা বিদেশের কোন প্রান্ত থেকে অপরাধ চালাচ্ছে, তাও শনাক্ত করা যাবে। এ জন্য স্যাটেলাইট ব্যবহারেরও সুবিধা নেয়া হবে। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করা হবে। অপরাধীদের তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা হবে। যাতে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। এ লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ দেবে ভারতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা।
 
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল গত বছরের মে মাসে বাংলাদেশ সফর করে। ওই সফরে ভারতীয় সহায়তায় অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে একটি আইটি গবেষণাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে ২০১২ সালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে অপরাধ দমনে প্রযুক্তি সহায়তার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
 
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘অপরাধ দমনে বাংলাদেশকে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিবে ভারত। নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরে অনেকগুলো ইস্যুর মধ্যে এই বিষয়েও চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।’ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘অপরাধ দমনে এক দেশ আরেক দেশকে সহায়তা করলে অপরাধের মাত্রা বাড়তে পারে না।’
 
এদিকে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়া ও ত্রিপুরার আগরতলা দিয়ে ভারতে ব্যান্ডউইথ রফতানির একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এক বছরের জন্য ১০ জিবিপিএস করে ব্যান্ডউইথ নেবে ভারত। এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিমাসে এক লাখ ডলার। যা এক বছরে বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় সাড়ে ৯ কোটি। উভয় দেশ সম্মত হলে চুক্তির মেয়াদ বাড়তে পারে। বাংলাদেশের সাব মেরিন কেবল কোম্পানী লিমিটেড ও ভারতের ভারত সঞ্চার নিগাম লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। গত বছরের মে মাসে ব্যান্ডউইথ রফতানির বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল।
 

সাব মেরিন কেবল কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলেন, ভারতের ত্রিপুরায় ব্যান্ডউইথ নেয়া কষ্টসাধ্য। তাই বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ কেনাই ভারতের জন্য সুবিধা। তার মতে, ১০ জিবিপিএসের চুক্তি হলেও আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভারত ৪০ থেকে ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নেবে। কারণ ত্রিপুরায় চাহিদা অনেক বেশি। আর বাংলাদেশও ওই পরিমাণ ব্যান্ডউইথ দিতে সক্ষম। জানা গেছে, এরপরও বাংলাদেশের হাতে ১০০ জিবিপিএসেরও বেশি ব্যান্ডউইথ অব্যবহূত থাকবে।