টঙ্গীতে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধে এরশাদনগর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী জামালউদ্দিন ওরফে গাট্টু জামালকে গত মঙ্গলবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করেছে টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ। গুলিবিনিময়কালে থানার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম সবুর, ওসি তদন্ত আমিনুল ইসলাম, এসআই হাসানুজ্জামান, এএসআই সিদ্দিকুর রহমান ও মাহবুবসহ কমপক্ষে ৮জন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে একটি বিদেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলি, একটি চাপাতি, কয়েকটি কার্তুজ ও ৩টি অবস্ফুিরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়। চারটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, দুপুর ২ টায় এরশাদনগরে (বাস্তহারা) চিহ্নিত সন্ত্রাসী জামাল হোসেন ওরফে গাট্টু জামাল এলাকার ৫নং ব্লকের শাহাবুদ্দিনের বাসায় অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার গোলাম সবুরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তার ঐ বাসা ঘিরে ফেলে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জামাল ও তার বাহিনী পুলিশের উপর ককটেল নিক্ষেপ ও গুলি চালাতে চালাতে আস্তানা থেকে বেরিয়ে আসে। এসময় পুলিশ সদস্যরা পাল্টা গুলি চালাতে শুরু করলে জামাল দু’পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে তার দেয়া তথ্যমতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ৩ টি গুলি, একটি চাপাতি, কয়েকটি কার্তুজ ও ৩টি ককটেল উদ্ধার করা হয় । পুলিশ তাকে প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। টঙ্গী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসী গাট্টু জামাল পুলিশের সোর্স রাসেল হত্যা মামলার আসামি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। ওইদিনই রাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে জামালের স্ত্রী পারুল বেগমকে (২৬) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গ্রেফতার করে টঙ্গী পুলিশ। জামালের গ্রেফতারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে থানা পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান তাকে গ্রেফতার করার পর হাতকড়া পরা অবস্থায় সে পুলিশভ্যান থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর এসআই মনিরুজ্জামানসহ ৪ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ সুপার থানা থেকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করে নেন।