মীর্জাগঞ্জে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

মীর্জাগঞ্জের সুবিদখালী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাফিজা আক্তারকে গত মঙ্গলবার বিকালে পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় কলেজ সংলগ্ন রাস্তায় ফেলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে তার স্বামী, ননদ ও শ্বশুর। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে হাফিজার সহপাঠী পরীক্ষার্থী মো. সাইদুল ইসলামও গুরুতর আহত হন। আহত হাফিজা আক্তারকে মীর্জাগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে এবং সাইদুল ইসলামকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ হাফিজার স্বামী আবুল কালাম ও ননদ রাজিয়া বেগমকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

 
মামলার বিবরণে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার বড় রঘুনাথপুর গ্রামের ওয়াজেদ জোমাদ্দারের মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী হাফিজার সঙ্গে গত ৮ মাস আগে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া গ্রামের হোসেন খলিফার ছেলে আবুল কালামের বিয়ে হয়; কিন্তু বিয়ের পর থেকেই আবুল কালাম বিদেশে যাওয়ার জন্য হাফিজা ও তার পিতার কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় হাফিজা পিতার বাড়িতেই থাকত। ওইদিন হাফিজা পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে বেদম মারধর করে তার স্বামী আবুল কালাম, ননদ রাজিয়া ও শ্বশুর হোসেন খলিফা। হাফিজার চিত্কারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মীর্জাগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে।
 

মীর্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে হাফিজার পিতা হোসেন খলিফা বাদী হয়ে মীর্জাগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। প্রধান আসামি আবুল কালাম ও হাফিজার ননদ রাজিয়াকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।