পুরো নাম: জোসেপ এস সেপ ব্লাটার।
জন্ম: ১০ মার্চ, ১৯৩৬; ভালাইস, সুইজারল্যান্ড।
যা ছিলেন: ফুটবলার, ক্রীড়া লেখক, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্য, সুইস হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৭২ ও ১৯৭৬ অলিম্পিকের কর্মকর্তা।
ফিফা জীবন:
টেকনিক্যাল ডিরেক্টর: ১৯৭৫-১৯৮১
সাধারণ সম্পাদক: ১৯৮১-১৯৯৮
সভাপতি: ১৯৯৮-২০১৫
অভিব্যক্তিহীন, নিরাসক্ত। বরাবরের সেই উত্ফুল্লতা নেই মুখে। চোখে সেই প্রাজ্ঞতা আর তীক্ষ বুদ্ধির ঝিলিক অনুপস্থিত। বরং সেখানে ঠাঁই নিয়েছে খানিক হতাশা। তিন দিন আগে যিনি বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমিই প্রেসিডেন্ট। সব কিছুর প্রধান আমি!’ সেই ব্যক্তিটিই যেন নিজের ভারে কিছুটা ধীর! হালকা পায়ে এসে দাঁড়ালেন মাইকের সামনে। শুরু করলেন সম্বোধনহীন দীর্ঘ বক্তৃতা। একটানা বলে গেলেন চার মিনিট।
‘ফুটবলের ভালোর জন্য’ নতুন কাউকে জায়গা দিয়ে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন সেপ ব্ল্যাটার। অবসান ঘটলো বিশ্ব ফুটবলে একক আধিপত্যের।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আর অন্যতম প্রাচীন সংগঠনের মাথার উপর ভর করা বিতর্কের কালো মেঘ ঠেলে যেন উঁকি দিল আশার সূর্য। ফিফা প্রধানের পদ থেকে ব্ল্যাটারের বিদায়ের খবরের প্রায় সাথে সাথে স্বস্তি আর আনন্দের বিবৃতি দিতে শুরু করলেন বিভিন্ন আঞ্চলিক প্রধান আর কিংবদন্তিরা। পেলে-দিয়েগো ম্যারাডোনা-জিকো-রোমারিওর মতো ফুটবল কিংবদন্তি থেকে শুরু করে এশিয়া-ইউরোপ আর কনকাকাফ অঞ্চলের সংগঠন প্রধান; কোকাকোলা-হুন্দাই-ভিসার মতো ফুটবল পৃষ্ঠপোষকরাও জানিয়েছেন ব্ল্যাটারের বিদায়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা।
সব বিতর্ক আর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সফল তদন্ত শেষে ফিফা আর ফুটবল আবারো বিশ্বের তাবত্ ফুটবল অন্তপ্রাণ মানুষের সমর্থন পাবে বলে আশাবাদ তাদের।
ইংলিশ ফুটবল ফেডারেশন এফএ প্রধান গ্রেগ ডাইক প্রশ্ন তুলেছেন চার দিন আগে নতুন সভাপ্রধান নির্বাচনের আগেই কেন সরে দাঁড়াননি ব্ল্যাটার, ‘কেন সে গত সপ্তাহে সরে দাঁড়ালো না। নিশ্চিতভাবেই এখন তার সামনে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ধরা আছে। গত কিছু বছরে তার কর্মকাণ্ডকে মোটেই সম্মানজনক বলা চলে না। এখন আর সে নেই। চলুন সময়টা উপভোগ করি।’
ব্ল্যাটারের সবচেয়ে বড় সমালোচক ইউরোপিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন্স উয়েফা সভাপতি মিচেল প্লাতিনি এই সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানালেন ব্ল্যাটারকে। এমন সিদ্ধান্তের জন্য যে দারুণ সাহসের প্রয়োজন, বললেন সেটাও। ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি বলেন, ‘কঠিন এক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে সাহসীও। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত।’
ব্ল্যাটারের ঘোষণার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়াও। নিউজিল্যান্ডে চলমান ফিফা অনূর্ধ্ব ২০ ফুটবল বিশ্বকাপে ব্ল্যাটারের উপস্থিতি কাম্য নয় বলে জানিয়ে দিয়েছেন আয়োজক দেশটির ফুটবল প্রধান অ্যান্ডি মার্টিন। তিনি বলেন, ‘এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমার মনে হয় না তিনি আসবেন। তবে কে জানে কি হয়!’
ব্ল্যাটারের বিদায়ে ফুটবল নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচলো বলে জানিয়েছেন তার কট্টর সমালোচক বলে পরিচিত ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোমারিও। পাশাপাশি তিনি এই পদত্যাগকে বলেছেন, ‘গত বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভাল খবর’ হিসেবে!
গত সপ্তাহে এফবিআই’র হাতে গ্রেফতারকৃত কনকাকাফ ফুটবল প্রধান জেফরি ওয়েবের অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নেয়া আলফ্রেডো হাওয়েট জানিয়েছেন, ফিফার সংস্কারে পূর্ণ সমর্থন দেবে তার সংগঠন। প্রায় একই কথা জানিয়েছে ব্ল্যাটারের ভোট ব্যাংক বলে পরিচিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশও। অন্যদিকে পেলে ব্ল্যাটারের উত্তরসূরী বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে সত্ কাউকে খুঁজতে গুরুত্বারোপ করেছেন, ‘সেপ ব্ল্যাটারকে নিয়ে যা হলো তাতে অনেকেই বিস্মিত। কোন সংগঠন চালাতে আপনাকে সত্ কাউকে বেছে নিতে হবে।’