সেলিম আল দীনের ‘হরগজ’ মঞ্চস্থ

নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন রচিত কালজয়ী সৃষ্টি ‘হরগজ’-এর মঞ্চায়ন হলো গত সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে। নাট্যসংগঠন স্বপ্নদলের দর্শকনন্দিত ও আলোচিত এ প্রযোজনার নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যাচার্যের শিষ্য জাহিদ রিপন।

 
১৯৮৯-এ মানিকগঞ্জ জেলার হরগজ-এ সংঘটিত প্রলয়ঙ্করী টর্নেডোর অভিজ্ঞতা নিয়ে ১৯৯২-এ সেলিম আল দীন ‘হরগজ’ নাটকটি রচনা করেন। প্রায় আণবিক বিস্ফোরণ তুল্য সে ঝড়ের পরে প্রথম উদ্ধারকারী দলের সেখানে গমন এবং আকৃতির জগত্ থেকে তাদের হঠাত্ নিরাকৃতির জগতে উপস্থিত হবার প্রতিক্রিয়া ও পরিণতি নিয়েই নাটকটি আবর্তিত। কাব্যিক এ প্রযোজনায় শেষ পর্যন্ত হরগজ যেন তাদের সামনে রূপান্তরিত হয় বিশ্বব্যাপী ভাঙা মানব ভুবনের রূপক রূপে। যেখানে কোনো মানুষই আর সম্পূর্ণ নেই!
 
ধর্মগ্রন্থের আদলে রচিত ‘হরগজ’-এ নাট্যকার ত্রাণদল প্রধান আবিদের মাধ্যমে এক নব্যকালের যিশুখ্রিস্টকে দৃশ্যমান করেছেন। যে ত্রাণদাতা রূপে উপস্থিত হয়ে দুর্গত মানুষের প্রতি সহমর্মীতায় সময়ের ব্যবধানে নিজেই যেন আর্তে পরিণত হয়। আর পাশাপাশি দর্শক মুখোমুখি হয় এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতার!
 
‘হরগজ’ প্রযোজনার গ্রন্থিকরা হলেন সুকন্যা, সামাদ, শিশির, শাওন, রেজাউল, তীর্থ, মিতা, মোস্তাফিজ, নাবলু, তানভীর, জেবু, মাধূরী, রিমু, শরীফ, সাইদ, হিটলার, মাসুদ, মৈত্রী, আলী, বিমল, জুঁই, জুয়েনা, জাহিদ প্রমুখ। প্রযোজনাটির আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন ঠাণ্ডু রায়হান, মঞ্চ পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ন এবং প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন শিশির সিকদার। উল্লেখ্য, নয় মাস বিরতির পর ‘হরগজ’-এর এ মঞ্চায়নটি অনুষ্ঠিত হলো।