‘সরকারের দুর্নীতির বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপানোর বাজেট’

 
 
২০১৫-’১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি বিএনপি। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই, বরং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ সরকার নিজে যেসব দুর্নীতি করেছে, সেগুলোর বোঝা সাধারণ জনগণের ঘাড়ে চাপানোর নানা আয়োজন রয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। আর দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ.স.ম হান্নান শাহ এটিকে ‘জবরদখলকারী সরকারের অনৈতিক বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছেন।
 
বিএনপির দফতরের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন জানিয়েছেন, তারা বাজেট পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন। তবে দলটির একটি সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, যেহেতু বর্তমান সরকারকে তারা ‘বৈধ’ মনে করেন না, সে কারণে এ সরকারের বাজেট সম্পর্কে দলীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও দেয়া হবে না।
 
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত যখন সংসদে বাজেট বক্তৃতা করছিলেন, তখন রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাজেটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবে। তার মতে, এই বাজেট ধনীদের। এতে গবের ভাগ্যের কোনো উন্নয়ন হবে না। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশ। এই বাজেটেও প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ। অথচ এতদিনে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ হওয়ার কথা। বিএনপি যে অবস্থায় প্রবৃদ্ধির হার রেখে এসেছে এখনও সে অবস্থায়ই রয়ে গেছে। এতে প্রমাণ হয় যে, সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। আর না পারার কারণ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা। যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বাজেট দেয়া হয়েছে, সরকার সে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি।
 
খসরু আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের সুশাসনের অভাব এবং দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার যে ঘটনাগুলো এ সরকারের আমলে ঘটেছে, সেগুলোর বিচার হয়নি বলেই সেটি আরও বেড়ে গেছে।
 
এদিকে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে বলেছেন, ‘অনৈতিক জবরদখলকারী সরকার’ ২ লাখ ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছে, উনারা দেশটাকে নিজেদের জমিদারি মনে করেন। এই টাকা আসবে কোত্থেকে।