ধরপাকড়েও কমছে না সাইবার অপরাধ

কাউকে হত্যা করে ওয়েবসাইট বা ফেসবুকে দায় স্বীকার করা, ই-মেইলে হুমকি প্রদান, পাসওয়ার্ড চুরি, হ্যাকিং, অশ্লীল ছবি বা ভিডিও আপলোড করাসহ নানা ধরনের সাইবার অপরাধ দেশে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গেছে। বিভিন্ন সময় অনেককে গ্রেফতার করা হলেও ঠেকানো যাচ্ছে না এই অপরাধ।

 
জানা গেছে, বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন টার্গেট করা ব্যক্তিকে হত্যার পর দায় স্বীকার করে ওয়েবসাইটে ঘোষণা দিচ্ছে। ঘোষণা দেয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারছে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের মেয়ের সাথে বেসরকারি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ফুটেজ ইউটিউবে আপলোড করা হয়। এ ঘটনায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরে অবশ্য ওই শিক্ষার্থীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, সাইবার ক্রাইমের মধ্যে এখন সবেচেয় বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ‘ফেসবুক ক্রাইম’কে। ইতিমধ্যে ফেসবুকে হুমকি, রাষ্ট্র বিরোধী কার্যকলাপ ও জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকায় অর্ধশত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাঁশের কেল্লার এডমিন জিয়া উদ্দিন ফরহাদ, শিবিরের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ শাখার সভাপতি, প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতি করার দায়ে রানা, আইএস জঙ্গি কানেকশনে শাকিব-বিন-কামাল, আমিনুল ইসলাম বেগ ও আব্দুল্লাহ আল গালিবকে গ্রেফতার করা হয়।
 
র‌্যাবের কমিউনিকেশন শাখা সূত্র জানায়, পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে তরুণ-তরুণীর মধ্যে ওয়েবসাইটে পর্নো ছবি ও ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনা অহরহ ঘটছে। এটা রোধ করতে ঐসব দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও চিন্তিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি সাইবার ক্রাইম তরুণ-তরুণীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা রোধ করার জন্য প্রথমত ব্যক্তিগত সচেতনতা প্রয়োজন। পর্নো ওয়েবসাইটগুলো বন্ধের ব্যবস্থা নিলেও পরবর্তীতে লিঙ্ক পদ্ধতিতে ঐসব ওয়েবসাইট চালু থাকছে। তবে ফেসবুকে কেউ কারো ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি আপলোড করে দিলে ওই একাউন্টের মালিককে সনাক্ত করার প্রযুক্তি গোয়েন্দাদের কাছে রয়েছে। ফেসবুকে ব্ল্যাকমেইলিং করেছে এরকম কয়েকজন তরুণকে আটকও করেছে র্যাব।
 
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সাইবার ক্রাইম) মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, ফেসবুকে হুমকি বা অশ্লীল ছবি আপলোড করা অথবা জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগগুলো তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয়। ঐসব ফেসবুকের আইডি বন্ধও করে দেয়া হয়। তবে অভিযুক্ত কোন ওয়েবসাইট বন্ধ করতে ডিবি থেকে বিটিআরসি’র কাছে সুপারিশ করা হয়। তবে দেশের বাইরের ওয়েবসাইট এর ক্ষেত্রে করার কিছুই থাকে না। অবশ্য অশ্লীল ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হলে, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
 
সাইবার অপরাধের শাস্তি:তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৬ ধারার ২ এর উপ-ধারায় বলা হয়েছে: যদি কেউ এমন কোনো কম্পিউটার সার্ভার, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করার মাধ্যমে এর ক্ষতিসাধন করেন- যার তিনি মালিক বা দখলদার নন— তাহলে তার এই কাজ হবে একটি হ্যাকিং অপরাধ। কোনো ব্যক্তি এই অপরাধ করলে তিনি অনূর্ধ্ব ১০ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারেন বা উভয় দণ্ড দেয়া হতে পারে।
 

তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে বা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।