উখিয়ার দুর্গম পাহাড়ের সরকারি বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা অর্ধশতাধিক রহস্যময় স্থাপনা অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবদুস সোবহানের নেতৃত্বে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর চার শতাধিক সদস্য বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা থেকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। দু’টি বুলডোজার দিয়ে মাত্র দেড়ঘন্টার মধ্যেই সমস্ত অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, গত প্রায় তিন মাস আগে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন উখিয়ার মুদিরছড়া এলাকায় ১৫/২০ একর সরকারি বনভূমি দখল করে অর্ধশতাধিক সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। জঙ্গী সম্পৃক্ত বিদেশি এনজিওর অর্থায়নে এবং সশস্ত্র পাহারায় এই স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিতর্কিত এমপি আবদুর রহমান বদির শ্যালক ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী আন্তর্জাতিক এনজিও মুসলিম এইড এবং তুরস্কের আরো কয়েকটি এনজিওর ২৬ কোটি টাকার অনুদানে দুর্গম পাহাড়ে রোহিঙ্গাদের প্রশিক্ষণের জন্য এসব স্থাপনা নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে রামু উপজেলার পানেরছড়া এলাকা এবং মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বালুখালী এলাকার বনভূমিতেও এই ধরনের স্থাপনা গড়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। গত ৯ এপ্রিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চার শতাধিক সদস্য নিয়ে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহস্যময় স্থাপনাটি উচ্ছেদ করতে গিয়েছিল। এসময় তারা জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর সমর্থিত সশস্ত্র লোকজনের বাধার মুখে পড়ে। এ কারণে সে সময় উচ্ছেদ করা যায়নি। এমনকি রহস্যময় স্থাপনাগুলো অক্ষত রাখতে পাহাড়ে যাতায়াতের রাস্তা পর্যন্ত কেটে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত এমপি আবদুর রহমান বদি ঘটনাস্থলে এসে হস্তক্ষেপ করেন। তিনি যৌথবাহিনীর সঙ্গে সেদিন এক বৈঠকে বসে স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময় নির্ধারণ করেন। এ কারণে সে সময় উচ্ছেদ কার্যক্রম এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়। কিন্তু এক সপ্তাহের কথা বলে দীর্ঘ প্রায় দু’মাস পর্যন্ত স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের নবাগত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির বলেন, যে যাই বলুক সরকারি বনভূমি দখল করে স্থাপন করা রহস্যময় স্থাপনাগুলো নিরাপত্তাজনিত কারণেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। কেননা একে তো সরকারি বনভূমি তদুপরি বনভূমিতে অবৈধভাবে এরকম কোটি কোটি টাকার স্থাপনা রাতারাতি গড়ে তোলার ব্যাপারটি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।