‘বাজেট বস্ত্রখাতবান্ধব হয়নি’

২০১৫-১৬অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বস্ত্রশিল্প বান্ধব হয়নি বলে মনে করছে বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের সংগঠনগুলো। তারা বলছে, এমনিতেই বর্তমানে পোশাক ও বস্ত্রখাত চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় এ খাতের উপর এক শতাংশ উৎসে কর (সোর্স ট্যাক্স) ধার্য করা মোটেও যৌক্তিক হয়নি। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উত্সটিকে বিপর্যস্ত হওয়া থেকে বাঁচানে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার দাবি করেন তারা।
 
শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ। সংবাদ সম্মেলনে  বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম,বিকেএমইএ সভাপতি  একেএম সেলিম ওসমান, বিটিএমএ সভাপতি তপন চৌধুরী, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ এন্ড প্যাকেজিং ম্যানুফেকচারিং এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
 
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, ২০১৫-১৬ সালের ঘোষিত বাজেটে রফতানি বাজার ও রফতানি দ্রব্য বৈচিত্রকরণে দেয়া  প্রণোদনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব আমাদের সকলকে আশ্বস্থ করেছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা প্রয়োজন। আর  রফতানি মূল্যের উপর উৎসে কর শুণ্য দশমিক তিন শতাংশ থেকে অবিশ্বাস্যভাবে এক  শতাংশে উপনীত করার সিদ্ধান্তটি তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে অনেকাংশেই বাধাগ্রস্থ করবে। তাই দেশের রফতানি বানিজ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকা এ শিল্পের স্বার্থে সোর্স ট্যাক্স শুণ্য দশমিক তিন শতাংশের চেয়ে কমাতে না পারলেও কমপক্ষে আগের অর্থাৎ শুন্য দশমিক তিন শতাংশ অব্যাহত রাখা হোক। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ট্যাক্স কমানোও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দেশের রফতানি বানিজ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এ খাতটির উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ২০১২ ও ২০১৩ সালের দুটি বড় দুর্ঘটনার (তাজরীন ফ্যাশন্সে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধস) কারণে বর্তমানে সার্বিক গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতকে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এছাড়াও সাম্প্রতিক কালের সহিংস রাজনীতি এ শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটে দেয়া প্রস্তাব বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উত্সটি বিপর্যস্ত করবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হয়।
 
একেএম সেলিম ওসমান বলেন, আমাদের মূল দাবি দুটি। একটি সোর্স ট্যাক্স কমানো এবং অন্যটি মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে ট্যাক্স কমানো। তিনি বলেন, সোর্স  ট্যাক্স না কমালে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হয়ে যাবে। আর মূলধনী যন্ত্রপাতি সবসময় আমদানি করতে হয়। তাই এ দুই ট্যাক্স না কমালে বস্ত্র ও পোশাক খাতের জন্য অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।