মোদীর সফরের দিকে চেয়ে ছিটমহলবাসী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে ৬৮ বছরের বন্দী জীবদ্দশা থেকে মুক্ত জীবন পেতে দ্রুত ছিটমহল বিনিময়ের স্বপ্নে এখন বিভোর ছিটমহলবাসী। দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বি-পাক্ষিক আলোচনায় দ্রুত এর বাস্তবায়ন হবে এটাই তাদের প্রত্যাশা। তারা আশা করছেন, নরেন্দ্র মোদীর সফরের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঠিক করে ছিটমহল বিনিময় করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ জীবনের দুঃখ-দুর্দশা ঘোচাতে ছিটমহলের উন্নয়নে ভারত সরকারের কাছে প্যাকেজ প্রোগ্রাম ঘোষণার দাবি তাদের।

 
ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের সভাপতি আলতাব হোসেন জানান, আমরা আশা করছি, নরেন্দ্র মোদীর এ সফরের মধ্য দিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করে দ্রুততম সময়ে ছিটমহল বিনিময় করা হবে। আর বন্দী জীবন নয়, নতুন জীবন নিয়ে বাঁচতে চাই আমরা।
 
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা জানান, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ফল ভোগ করার আশায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে চেয়ে আছেন ছিটের অসহায় মানুষেরা। যত দ্রুত সম্ভব ছিটমহল বিনিময় করে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়াসহ ছিটবাসীদের ভাগ্য উন্নয়নে দু’দেশকেই এগিয়ে আসতে হবে এমনটাই দাবি এ নেতার।
 
সমন্বয় কমিটি বাংলাদেশ অংশের সভাপতি মঈনুল হক জানান, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার সফরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১১১টি ছিটমহলের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করবেন। যার সহায়তায় এসব ছিটমহলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে, ছিটমহল বিনিময়ের সুফল ভোগ করতে পারবে।
 

উল্লেখ্য, গত ৭ মে লোকসভায় স্থল সীমান্ত বিল পাশ করে ভারত সরকার। বিলটি পাশের খবরে আনন্দে ভাসতে থাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের ৫২ হাজার মানুষ। ভারতের পার্লামেন্টে বিল পাশের এক মাসের মাথায় আজ ৬ জুন দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বাংলাদেশে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।