ঢাকার উদ্দেশে দিল্লি ত্যাগ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার সকালে ‘এয়ার ইন্ডিয়া-ওয়ান’ ফ্লাইটে করে ঢাকায় রওনা হন তিনি।
সকাল সোয়া ১০টায় তার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
৩৪ ঘণ্টার কর্মসূচি
দুই দেশের কর্মকর্তাদের প্রণীত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকায় ৩৪ ঘণ্টা অবস্থান করবেন নরেন্দ্র মোদী। তার সঙ্গে থাকবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, পররাষ্ট্র সচিব এস জয় শংকরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সকাল সোয়া দশটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদীকে অভ্যর্থনা জানাবেন। বিমানবন্দরে ফুলের তোড়া উপহার, ১৯ বার তোপধ্বনি, গার্ড অব অনার গ্রহণ ও গার্ড পরিদর্শন, মন্ত্রিসভার সদস্যদের পরিচিতি পর্বসহ ব্যাপক আয়োজন রয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে নরেন্দ্র মোদী যাবেন সাভার। সেখানে জাতীয় স্মৃতিসৌধে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে তিনি যাবেন ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও দর্শনার্থী বই-এ স্বাক্ষর করবেন মোদী। দুপুরে তিনি সোনারগাঁও হোটেলে যাবেন। ঢাকায় অবস্থানকালে এই হোটেলেই তিনি থাকবেন।
বিকেল চারটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন। সাড়ে চারটায় মোদী যাবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। দুই প্রধানমন্ত্রী প্রায় আধঘণ্টা একান্তে বৈঠক করবেন। সেখানে নরেন্দ্র মোদী ১৯৭২ সালে কলকাতায় বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত ভাষণের সিডি, ভারতের সংসদে স্থলসীমান্ত চুক্তি পাস হওয়ার সময় বিতর্কের প্রতিলিপি হস্তান্তর করবেন শেখ হাসিনার কাছে।
শেখ হাসিনাও ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ছবি উপহার দেবেন নরেন্দ্র মোদীকে। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নিয়ে বসবেন আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনায়। এরপর তারা যৌথভাবে কয়েকটি কার্যক্রম ও প্রকল্প উদ্বোধন চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করবেন। সন্ধ্যায় সোনারগাঁও হোটেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদীর সম্মানে ভোজসভার আয়োজন করবেন। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রয়েছে। অপর সফরসঙ্গী পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি গত রাতে কলকাতা থেকে ঢাকা আসেন তিনি।
উদ্বোধন পর্ব
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী যৌথভাবে বেশ কয়েকটি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। কলকাতা-আগরতলা বাস সার্ভিস ও ঢাকা-শিলং-গুয়াহাটি বাস সার্ভিসের সূচনা; খুলনা-মংলা রেলওয়ে লাইন এবং কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল সংযোগ পুনর্বহাল, শিলাইদহের কুঠিবাড়ীতে রবীন্দ্রভবন, সারদা পুলিশ একাডেমিতে মৈত্রী ভবন, ফেনী নদীর উপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের একটি পরীক্ষাগার এবং একটি বর্ডার হাট উদ্বোধন করা হবে।
ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন
নরেন্দ্র মোদী রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি যাবেন বারিধারার ভারতীয় হাইকমিশনের নবনির্মিত চ্যান্সারি ভবনে। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় যোগ দেবেন তিনি।
বঙ্গভবনে যত আয়োজন
নরেন্দ্র মোদী রবিবার বেলা সাড়ে বারটায় বঙ্গভবনে যাবেন ও রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন। বঙ্গভবনের দরবার হলে এক অনুষ্ঠানে ভারতের বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্মাননা গ্রহণ করবেন মোদী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ নরেন্দ্র মোদীকে মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়িত করবেন।
খালেদা, রওশনসহ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ
বঙ্গভবন থেকে বেলা তিনটায় নরেন্দ্র মোদী যাবেন সোনারগাঁও হোটেলে। সেখানে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সাক্ষাৎ করবেন।
সুধী সমাবেশ
নরেন্দ্র মোদী রবিবার সন্ধ্যায় দেড় ঘণ্টার সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ভারতীয় হাইকমিশন আয়োজিত সুধী সমাবেশে সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার মধ্যদিয়েই ৩৪ ঘণ্টার ঢাকা কর্মসূচি শেষ করবেন নরেন্দ্র মোদী। রাত ৮টা ২০ মিনিটে বিশেষ বিমানযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।