ঐতিহাসিক সফরে শনিবার বাংলাদেশে এসেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কের কিছু তথ্য তুলে ধরেছে ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক পারস্পরিক লাভজনক। তবে দিল্লিকে প্রত্যয়ী ও বিশ্বাস অর্জনে আরো বেশি কাজ করেত হবে। আট বছর আগে ভারত বিদ্যুৎ ভাগাভাগির প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ তাতে প্রভাবিত হয়নি। শুধু ত্রিপুরায় গ্যাসনির্ভর বিদ্যুকেন্দ্র স্থাপনের জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে ত্রিপুরায় কার্গো যাতায়াতের জন্য ট্রানজিট দিয়েছিল বাংলাদেশ।
তবে কয়েকবছর প্রচেষ্টার পর ভারত ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি শুরু করে। অনুমান করা হচ্ছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো ৭০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উত্পন্ন করতে সক্ষম। তবে এটি বাংলাদেশ ছাড়া ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক ভালো। তবে বাণিজ্যে ঢাকার দৃষ্টি আকর্ষণ আরো বাড়াতে হবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ৬.৫ বিলিয়ন, কিন্তু বাংলাদেশ ভারতে মাত্র পাঁচশ মিলিয়ন রফতানি করে। ভারতের উচিত এই বৈসাদৃশ্য কমিয়ে আনা। বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বিষয়ে ভারতকে দ্রুত আগানো উচিত। নেপাল ও ভুটানের মতো উপ-আঞ্চলিক সংযোগ পরিকল্পনায় ভারতের জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দুই পক্ষের নিরাপত্তার বিষয়টি পরস্পর সম্পর্কিত। ভারত ও বাংলাদেশ চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্তের যৌথ অংশীদার। বাংলাদেশের সাথে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের (পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম) সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের জঙ্গি সংগঠন দমনে বাংলাদেশ সহায়তা করে আসছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের জোরদারের মাধ্যমে নিরাপত্তার বিষয়টি আরো বেশি উন্নত হবে।
পানি বণ্টনের বিষয়টি বাংলাদেশের কাছে প্রধান বিষয়। ২০১১ সালে তিস্তার পানি অর্ধেক-অর্ধেক ভাগাভাগিতে সম্মত হলেও এখন পর্যন্ত বিষয়টি ঝুলে আছে। পশ্চিমবঙ্গের সই ছাড়া এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হতে ২০ বছর সময় লেগেছে। ১৯৯৬ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত মার্চের ২২ তারিখ বাংলাদেশ ২৩২ কিউসেক পানি পেয়েছে, যা এর ইতিহাসে সবচেয়ে কম। দুই দেশের মধ্য দিয়ে ৫৪ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তাই পানির বণ্টন আশ্বস্ত করা জরুরি।
দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য স্থল সীমান্তচুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪১ বছর পর দুই দেশ এই চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য নিজ নিজ দেশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থল সীমান্ত চুক্তিতে সম্মত হলেও তিস্তার পানি বণ্টনে চুক্তি নিয়ে তেমন এগোননি।