‘সরকারের ব্যাংকঋণ-নির্ভরতা বেসরকারি খাতে প্রভাব ফেলবে’

 
 
বাজেটে সরকার ঘাটতি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে। ব্যাংকঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।
 
শনিবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়—সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য অর্থায়ন ও বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তির এ চ্যালেঞ্জ দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করতে হবে। রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ মূল বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের বেশির ভাগ দাবি বাজেটে প্রতিফলিত হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি রপ্তানিতে উেসকর আগের হারে রাখাসহ কয়েকটি বিষয়ে নজর দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
 
তিনি বলেন, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারকে ৭ শতাংশের ওপরে নিতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। জিডিপিতে বেশি অবদান বেসরকারি খাতের। সে জন্য বেসরকারি খাতকে উত্সাহিত করতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যাংকঋণের সুদের হার কমাতে হবে। সূদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে না আনলে শিল্পায়ন সম্ভব নয়।’
 
‘বাজেটে ব্যবসায়ীদের বেশির ভাগ দাবি মেনে নেয়া হয়েছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো বেশির ভাগ প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। আমরা যা চেয়েছি, মোটামুটি বাজেট পেপারে তা এসেছে। এ জন্য এবারের বাজেট নিয়ে তেমন হৈচৈ নেই। অর্থাত্, সরকার এফবিসিসিআইকে গুরুত্ব দিয়েছে।’
 
অর্থবছরের শুরু থেকেই বাজেট তদারকি জোরদার করার দাবি জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়—অর্থায়ন ও ব্যয় সঠিকভাবে করতে না পারায় প্রতিবছরই বাজেট সংশোধন করতে হয়। এতে আর্থিক অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হতে পারে। এ জন্য বছরের শুরু থেকেই তদারকি জোরদার করা জরুরি।
 
চলতি অর্থবছর রাজস্বের বড় লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যবসায়ের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ ও ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
 
এ সময় এফবিসিসিআইয়ের নবনির্বাচিত পরিচালকদের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।