ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ শুরু

 
স্বাগতিক কানাডা ও চীনের খেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সময় রবিবার ভোররাতে শুরু হচ্ছে সপ্তম ফিফা মহিলা বিশ্বকাপ। নিউজিল্যান্ড বনাম নেদারল্যান্ডস মধ্যকার অপর খেলাটি হবে এদিন সকাল সাতটায়।
 
প্রথমবারের মতো ২৪টি দেশের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল হবে পাঁচ জুলাই। এর মধ্যে ক্যামেরুন, কোস্টারিকা, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডোর, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইজারল্যান্ড ও থাইল্যান্ড খেলছে প্রথমবারের মতো।
 
তবে শিরোপার জন্য ফেবারিট ভাবা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, জাপান ও ব্রাজিলকে।
 
কানাডার ছয়টি ভেন্যু থেকে সম্প্রচারিত খেলাগুলো ১০০ কোটির বেশি দর্শক দেখবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সঙ্গত কারণেই খেলাগুলো মাঠে গড়ানোর আগেই আলোচনায় উঠে এসেছেন বেশ কজন নারী ফুটবলার। তার মধ্যে তুলে ধরা হল মাঠ কাঁপাতে পারেন এমন পাঁচজনের কথা।
 
সবার আগে আলোচনায় চলে আসে নাইজেরিয়ার আসিসাত ওশোয়ালার নাম। ২০ বছর বয়সী এই তরুণী প্রথম কোনো নাইজেরিয়া যিনি ইংল্যান্ডের মহিলা সুপার লিগে নাম লিখিয়েছেন। লিভারপুল লেডিসের এই ফরোয়ার্ড সম্প্রতি বিসিবি’র বর্ষসেরা মহিলা ফুটবলারের পুরস্কারও জিতেছেন। গত বছর কানাডাতেই অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপেও চমক দেখান ওশোয়ালা। নাইজেরিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল করে টুর্নামেন্ট সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটাও নিজের করে নেন। আফ্রিকান এই দেশটির ফাইনাল খেলার পেছনে ওশোয়ালাই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। যদিও শিরোপা লড়াইয়ে অল্পের জন্য জার্মানির কাছে হারতে হয় নাইজেরিয়াকে।
 
দেশটির জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে ওশোয়ালা মিডফিল্ডারের হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকেই তাকে পুরুষ ফুটবলের কিংবদন্তী মিডফিল্ডার নেদারল্যান্ডসের ক্ল্যারেন্স সিডর্ফের সঙ্গে তুলনা করেছেন। মুসলিম পরিবারের মেয়ে ওশোয়ালা ফুটবলে এসে কয়েক দিনেই তারকা বনে গেলেও, কিছুটা হতাশ তার বাবা-মা। পেশাদারী ফুটবলে নাম লেখানোয় স্কুল থেকে ঝরে পড়তে হয়েছে তাকে। বাবা-মা’র ইচ্ছা ছিল লেখা-পড়া শেষ করে ‘সুপারজি’ নামে পরিচিত মেয়েটি তাদের প্রতিষ্ঠিত গোল্ড এবং ফ্যাশন শিল্পে নিশ্চিত ক্যারিয়ারে পা বাড়াবে।
 
ব্রাজিল মহিলা দলের ফরোয়ার্ড মার্তাকে বলা হচ্ছে কানাডা আসরের সবচেয়ে বড় তারকা। ‘মহিলা পেলে’ নামে পরিচিতি পাওয়া ২৯ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান এরই মধ্যে পাঁচবার ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। বলা যায় মার্তাই মহিলা ফুটবলের সর্বোচ্চ এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে পরিচিত মুখ। বর্তমানে সুইডেনের এফসি রোসেনগার্ডের এই খেলোয়াড় ১৪টি গোল করে অবসরে যাওয়া জার্মানির বিরজিট প্রিনজের সঙ্গে যৌথভাবে মহিলা বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের মালিক। ধারণা করা হচ্ছে মারতা এবারের আসরে রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন।
 
নেদারল্যান্ডসের ফরোয়ার্ড ভিভিয়ান্নে মিয়েদেমার বয়স মাত্র ১৮ হলেও, এবারের আসরে তারকা খ্যাতি নিয়েই মাঠে নামছেন । এরই মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের মহিলা দলে নাম লিখিয়েছেন এই ফরোয়ার্ড। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— প্রথমবারের মতো মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে আসা ডাচদের শিরোপা জেতাতে সাহায্য করবেন। মিয়েদেমাকে ‘ইউরোপের সবচেয়ে প্রতিভাধর’ মহিলা ফুটবলার হিসেবে অভিহিত করা হয়। অনেকে তাকে ‘মহিলা ফুটবলের আরিয়েন রোবেন’ বলেও অভিহিত করে থাকেন।
 
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জাপানের হোমারে সাওয়া আসরের অভিজ্ঞ তারকাদের অন্যতম। ৩৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার চলতি বিশ্বকাপেও শিরোপাধারীদের হয়ে অভিজ্ঞতার দ্যুতি ছড়াবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। ২০১১ সালে সর্বশেষ আসরে জাপানকে চ্যাম্পিয়ন করার পেছনে সাওয়া বড় অবদান রাখেন। জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ওই আসরে সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন তিনি। তবে চলতি মৌসুমে বেশ ইনজুরিতে ভুগেছেন এই তারকা মিডফিল্ডার। যদিও বিশ্বকাপের আগে চোট কাটিয়ে দলে জায়গা করে নিতে সমস্যা হয়নি সাওয়ার।
 
কানাডার মিডফিল্ডার জেসে ফ্লেমিংয়ের দিকেও নজর থাকছে। দলটির সবচেয়ে পরিচিত মুখ অধিনায়ক ও তারকা স্ট্রাইকার ক্রিস্টাইন সিনক্লেয়ার হলেও মধ্য মাঠে নৈপুণ্য দেখিয়ে ফ্লেমিং ছাড়িয়ে যেতে পারেন সবাইকে। অসাধারণ মেধাবী এই তারকা বয়সে এখন ১৭, যিনি মাত্র ১৫ বছর বয়সে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক নিয়েছিলেন। আগামী দিনগুলোতে ফ্লেমিং বড় তারকাতে পরিণত হবেন বলে অনেকের ধারণা।
 
এছাড়া এবারের বিশ্বকাপে আরো যাদের দিকে নজর থাকছে তারা হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড অ্যাকে ওয়াম্বাখ, ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জিল স্কট, জার্মানির গোলরক্ষক ন্যাদিনে অ্যাঙ্গেরের, ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ওয়েনডাই রেনার্ড ও ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার ফারা উইলিয়ামস।—দ্যা গার্ডিয়ান