মোদী আজ গর্ভমন্দিরে অঞ্জলি দেবেন

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির আর রামকৃষ্ণ মিশন মঠ নতুন করে সেজেছে। লেগেছে রঙ তুলির আঁচড়। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যুহ তৈরি হয়েছে সেখানে। উপলক্ষ বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ রবিবার এখানে আসছেন। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে থাকবেন প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা আর মঠে থাকবেন আধাঘণ্টা। মঠে গিয়ে ধ্যানেও বসবেন। গর্ভমন্দিরে দেবেন অঞ্জলি। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর ফিরবেন সেখান থেকে।  

 
গত ১০ মে কলকাতার বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশ সফরের সময়ে ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনে যেতে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তখনই রাজি হয়ে যান মোদী। সেই পরিকল্পনা মতোই আজ মতিঝিল এলাকার পাশে গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশনে যাচ্ছেন তিনি। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম যাবেন ঢাকেশ্বরীতে। মন্দির ঘুরে দেখার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। পূজায় অঞ্জলি দেয়ার পর প্রসাদও নেবেন। এরপর সকাল সাড়ে ৯টায় যাবেন মঠে।
 
রামকৃষ্ণ মিশনের গেটে তাকে বরণ করে নিতে উপস্থিত থাকবেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুহিতানন্দ। সঙ্গে থাকবেন ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের জনসংযোগের ভারপ্রাপ্ত স্বামী শুভকরানন্দ। ঢাকা রামকৃষ্ণ মিশনে এখন তাই সাজ সাজ রব। স্বামী বিবেকানন্দের বিশাল কাটআউট ও তার বাণীতে সাজানো তোরণ বসছে মিশনের মূল ফটকে। এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে, প্রথমে গর্ভমন্দিরে অর্ঘ্য দেবেন মোদী। তারপরে বেলুড় মঠের মতোই এখানেও কিছুক্ষণ ধ্যানে বসার কথা তার।
 
ধ্যান শেষে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি দেখা করবেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে। মোদীর মাতৃভাষা গুজরাটিতে লেখা স্বামী বিবেকানন্দের জীবনী উপহার দেয়া হবে তাকে। সঙ্গে থাকবে শ্রীরামকৃষ্ণের প্রসাদী ধুতি, উত্তরীয় এবং প্রসাদ।
 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্ভবত মঠে যাচ্ছেন না। মঠ কর্তৃপক্ষকে তিনি জানিয়েছেন, স্বল্প সময়ের সফরের কারণে এবার হয়তো তার যাওয়া হয়ে উঠবে না। এবার না হলেও পরে নিশ্চয়ই যাবেন। তবে মিশনের অধ্যক্ষের জন্য রেশমের উত্তরীয় উপহার ইতোমধ্যেই পাঠিয়েছেন মমতা। আর শেখ হাসিনাও তাকে থেকে যেতে অনুরোধ করেছেন। প্রসঙ্গত, ১৮৯৯ সালে ঢাকায় তৈরি হয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশনের এই শাখা। যশোর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশে মোট ১৪টি জায়গায় শাখা রয়েছে মিশন মঠের।