আরএসএসের বাজেট বিশ্লেষণ

প্রয়োজনীয় বড় ব্যয়ের বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতার শঙ্কা

 
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড সাপোর্ট সার্ভিসেসের (আরএসএস) বাজেট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য বড় ব্যয়ের বাজেট প্রয়োজনীয়। তবে এ বাজেট বাস্তবায়নই হল মূল চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে। বাজেটের উন্নয়ন-ব্যয় দক্ষভাবে সম্পন্ন করা নিয়েও রয়ে যায় সংশয়।
 
এ দিকে, ভৌত অবকাঠামো খাতে বড় ব্যয় করতে গিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ (অংশের বিচারে) কমানো হয়েছে। এর দীর্ঘমেয়াদি ফল ইতিবাচক হবে না।
 
আরএসএসের বাজেট বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—এবারের বাজেটের আয়ের দিকে এনবিআর থেকে আয় ধরা হয়েছে ৫৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এনবিআর-বহির্ভূত কর ধরা হয়েছে ২ শতাংশ। এনবিআর থেকে যে বিশাল আয় ধরা হয়েছে, তা অর্জনে এনবিআরের যে সক্ষমতা দরকার, তা এখনো হয়নি। ডিজিটালাইজেশনের অপার্যপ্ততাও রয়েছে। ফলে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতিই তার প্রমাণ। রাজস্ব ব্যয়ের ক্ষেত্রে এবারের বাজেটে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র হিসেবে টেকসই অবস্থান পেতে হলে অবশ্যই আমাদের শতভাগ ঝরেপড়া মুক্ত প্রাথমিক শিক্ষা গড়ে তুলতে হবে। তাই শিক্ষার ব্যয়টি আরো বাড়ানো উচিত। স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু এ খাতেও ব্যয়ের বরাদ্দ বাড়ানো দরকার।
 
আরএসএসের বাজেট বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে—বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ৮৬ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা। তবে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হলে ঘাটতি আরো বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা বেসরকারি বিনিয়োগে ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট তৈরি করবে।
 

এ দিকে, আগামী অর্থবছরে (২০১৫-১৬) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ ধরা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগ ঠিকভাবে হলে প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব। তবে বিনিয়োগ পরিস্থিতি কতটা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।