‘প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে’

 
 
'২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে বিশেষ কৌশল নিতে হবে। আর এ জন্য সুশাসন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।' রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমুন্নয়ের বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির এমিরেটাস ফেলো খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
 
বাজেট ২০১৫-১৬ কতটা প্রান্তজন-বান্ধব হয়েছে, সে বিষয়ে আয়োজিত এ বাজেট প্রক্রিয়ায় সমুন্নয়ের সমন্বয়ক দিলরুবা ইয়াসমিন চৌধুরী ও বিআইআইএসএসের গবেষক মাহফুজ কবীর বক্তব্য দেন।
 
অনুষ্ঠানে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন হবে না। এ জন্য সরকারকে বিনিয়োগ বাড়ানোর কৌশল নিতে হবে। বিনিয়োগযোগ্য তহবিল রয়েছে, অথচ বিনিয়োগ হচ্ছে না, এর কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করতে হবে।’
 
তিনি উদ্যোক্তাদের বরাত দিয়ে বলেন, ‘আমার কয়েকজন উদ্যোক্তার সাথে কথা হয়েছে, আমি তাদের নাম বলছি না, তারা আমাকে বলেছেন—কোনো জায়গাতে স্বাভাবিকভাবে স্বচ্ছতার সাথে তারা সেবা পাচ্ছে না। বিদ্যুত্ পাওয়া দুষ্কর, যারা অনুমোদন করেন স্পিড মানি না দিলে তারা সংযোগ দেন না। এ ছাড়া, শিল্পের জন্য জমি পাওয়াও দুষ্কর। এটি দেশি-বিদেশি সব ধরনের শিল্পের সমস্যা। এ জন্য সরকারকে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে।’
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাবেক ডেপুটি গভর্নর বলেন, ‘করপোরেট কর কমানো হয়েছে—এটা একটা শুভ উদ্যোগ। তবে এ উদ্যোগ কতটা ফলদায়ক হবে, তা দেখতে হবে। কারণ, শুধু করপোরেট কর কমালেই বিনিয়োগ বাড়বে বা পুঁজিবাজার চাঙা হবে, তা নয়। এ উদ্যোগ সফল করতে হলে সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পূর্ণতা দিতে হবে।’
 
বাজেটকে ‘করদাতা-বান্ধব’ বলেও উল্লেখ করেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক এ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘বাজেটের যে আকার নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আনন্দদায়ক। তবে এ আকারের বাস্তবায়নের জন্য যে রাজস্ব বিশেষ করে এনবিআর থেকে যে রাজস্ব আসার কথা, তার ভিত্তি অনেকটা নড়বড়ে। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য প্রায় ৩০ ভাগ বাড়ানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত হয়নি। এ জন্য এখনই কী কী বিকল্প হতে পারে, তা ভেবে রাখতে হবে। ব্যাংকঋণ পাওয়া যাবে, তবে তা হবে চড়া সুদের।’
 
তিনি বলেন, ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র কমেছে। এখন সময় হতদারিদ্র কমানোর উদ্যোগ। দারিদ্র্য কমলেও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমেনি। ১৯৭২ সালে দেশে দারিদ্র আরো বেশি ছিল কিন্তু বৈষম্য কম ছিল। বৈষম্য কমানোটা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কারণ, সংবিধানে বৈষম্য কমানোর বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। সরকারকে এখন বৈষম্য কমানোর কৌশল নিতে হবে।’
 
তিনি বলেন, ‘বাজেট মোটামুটি প্রান্তজনদের সহায়ক হয়েছে। আশার সীমা থাকে না, সেই বিবেচনায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।’
 
মাহফুজ কবির বলেন, ‘বাজেটের সাথে প্রবৃদ্ধির সমন্বয় হচ্ছে না। আবার প্রবৃদ্ধি যা হচ্ছে, তার সাথে খরচের সমন্বয় নেই। এটি বড় ধরনের অব্যবস্থাপনা। মধ্য মেয়াদি উন্নয়ন ব্যয় কাঠামো থাকলে এ রকম হতো না।’

দিলরুবা ইয়াসমিন চৌধুরী বাজেটের বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ তুলে ধরে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানান।