টেকনাফে তালিকাভুক্ত পাঁচ মানব পাচারকারী গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের তালিকাভুক্ত পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ। রবিবার ভোর রাতে টেকনাফ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো সাবরাংয়ের সাদ্দাম হোসেন, মো. আমিন, মো. হাসান ও সৈয়দ আলম এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার শাহপরীর দ্বীপের কোনাপাড়া থেকে ইউনুছ প্রকাশ মাইক।

 
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খোন্দকার জানান, রবিবার ভোর রাতে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর ও (এসআই) আবুল কালামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফের সাবরাং এর খুরের মুখ ও শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে।
 
ওসি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতদের নাম মানব পাচারকারীর তালিকায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মানব পাচারের মামলাও রয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার ইউনুছ প্রকাশ মাইক ২০০৭ সালে অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী দুশ’ যাত্রীসহ ট্রলার ডুবির ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মানব পাচারে জড়িত ছিল। এটিই টেকনাফ থানায় মানব পাচারের ঘটনায় প্রথম মামলা ছিল।
 
চাটমোহরের সাত যুবক নিখোঁজ
 
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, পাবনার চাটমোহর উপজেলার ৭ যুবক দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাবার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছে। গত সাড়ে ৩ মাসেও এদের কোন খোঁজ মেলেনি। স্বল্প খরচে বিদেশ যাওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে নিখোঁজের তালিকায় যোগ হয়েছে চাটমোহরের এ ৭ যুবক।
 
উপজেলার বন্যাগাড়ি গ্রামের দরিদ্র জামাত আলীর ছেলে তানজীল হোসেন এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল। একটি পরীক্ষা বাকি থাকতে স্থানীয় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সে। একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ৯ মাস বয়সী শিশুকন্যা ও স্ত্রীকে রেখে পাড়ি জমান বিদেশে। কিন্তু গত চার মাসে তারও খোঁজ পাচ্ছে না তার স্বজনরা। একই অবস্থা গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে শুকুর আলী, আব্দুর রশিদের ছেলে জুয়েল, সাইফুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল, আটলংকা গ্রামের নুরাই হোসেনের ছেলে হোসেন আলী ও মুলগ্রাম পুকুরপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে জাকির হোসেনের।
 

স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় দালাল বন্যাগাড়ী গ্রামের শরীফ ও সুজন প্রথমে ২০ হাজার টাকা নিয়ে পাচারকারী চক্রের সহযোগিতায় প্রথম ধাপে তিনজনকে পরে দ্বিতীয় ধাপে আরও চারজনকে মোট সাতজনকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠায়। সেখানে নির্যাতন চালিয়ে মোবাইল ফোনে আরও টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। পরে জনপ্রতি প্রায় ১ লাখ টাকা করে পাঠান তাদের পরিবার। কিন্তু তারপরও তাদের খোঁজ না পেয়ে হতাশ স্বজনরা।