বরিশাল জাদুঘর আজ উদ্বোধন

দুইশ’ বছরের পুরনো কালেক্টরিয়েট ভবন আজ সোমবার বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘর হিসেবে যাত্রা শুরু করছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ জাদুঘর উদ্বোধন করবেন।

 
নগরীর প্রাণকেন্দ্রে এ ভবনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত প্রশাসনিক ভবন। বর্তমানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন পুকুর ঘেঁষা ভবনে একসময় কালেক্টরেটের কাজকর্ম চলতো। ১৯৫০ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ব্যবহারের অনুপযোগী বলে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় গণপূর্ত বিভাগ। ২০০৩ সালের ২ জানুয়ারি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে ভবনটিকে সংরক্ষিত প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে। ঐ বছর ১১ জুন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ঐ ভবনে জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গণপূর্ত বিভাগকে সাথে নিয়ে তাতে বাধা প্রদান করেন এবং সকল নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা কাজ বন্ধ করে এখান থেকে চলে যান। এ নিয়ে পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির পর পিছু হটে গণপূর্ত বিভাগ। পরের বছর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ভবনটি জাদুঘরে রূপান্তরের জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। পরবর্তী ৩ বছরে ভবনের পুরনো কাঠামো ঠিক রেখে রংতুলির আঁচড়ে জাদুঘরে রূপ দেয়া হয়। কিন্তু সেই স্বপ্নের জাদুঘর তালাবদ্ধই থেকে যায় দর্শনার্থীদের জন্য। আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হবে এ জাদুঘর।
 

ইতিমধ্যেই বিভিন্নস্থান থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে জাদুঘরে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান জানান, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক নানা নিদর্শন, কীর্তিমান ব্যক্তিদের ছবি স্থান পাচ্ছে এ জাদুঘরে। জাদুঘরের দ্বিতীয় তলার ৯টি গ্যালারিতে বরিশাল বিভাগের ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক পরিচিতি, বরিশালের কীর্তিমান ব্যক্তিবর্গ, বরিশালের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও লোকশিল্প, প্রত্ন-ঐতিহ্য, বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ ও ইতিহাস ঐতিহ্যের নানাদিক খুঁজে পাওয়া যাবে এ জাদুঘরে। ঔপনিবেশিক স্থাপত্য ঐতিহ্যের স্মারক নিদর্শন হিসেব সংরক্ষিত কালেক্টরিয়েট ভবনটি বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম প্রসাশনিক ভবন বলে প্রত্নতত্ত্ববিদরা জানান।