ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী তার সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের একসাথে এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করার যে ঘোষণা দিয়েছেন তার মাধ্যমে প্রকারান্তরে বেগম জিয়ার প্রতি নরেন্দ্র মোদী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি।
তিনি বলেন, অনেক অনুনয়-বিনয় ও দেন-দরবার করে খালেদা জিয়া নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। বৈঠকে বেগম জিয়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত এমন অভিযোগ করলেও ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, তার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বেগম জিয়াকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের মতো জিরো টলারেন্স এবং এ অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বাংলাদেশের সাথে কাজ করে যাব। মূলত এর মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদী বিএনপি নেত্রীকে আন্দোলনের নামে জামায়াতের জঙ্গিদের নিয়ে নিরীহ মানুষের উপরে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, মানুষহত্যা, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় এর বিরুদ্ধেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সোমবার সকালে জাতীয় শিল্পকলা একডেমিতে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত 'বিএনপি কেন ভারতমুখী' শীর্ষক এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন।
বেগম জিয়াকে উদ্দেশ্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, আপনি মোদীর সাথে সাক্ষাতের সময় কান্নাকাটি করেছেন কিনা জানি না, আপনি তার পায়ে প্রণাম করেছেন কিনা তাও জানিনা। যতই অনুনয়-বিনয় করেন না কেন কোন লাভ নাই। আপনি ও আপনার দল বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন তার চিন্তা-ভাবনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা-ভাবনা এক ও অভিন্ন। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে কাজ করে যাবে যাতে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত আরও বেশি প্রসারিত, দৃঢ় ও মজবুত হয়।
হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন সরকারের পতন না ঘটিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যাবেন না। তিনি বাড়ি ফিরেছেন ঠিকই কিন্তু খালি হাতে। বিএনপি এখন পথহারা পথিকের মতো। বিএনপির অনেক নেতাই এখন স্বীকার করে নিচ্ছে বিএনপি ২০১৯ সালের নির্বাচনেও জয় লাভ করতে পারবে না। অনেকে আবার বলছে এই বিএনপিকে দিয়ে হবে না।আবার অনেকেই বলছেন খালেদা জিয়াকে দিয়ে কিছুই হবে না।
আওয়ামী লীগের এ নেতা আরও বলেন, ফান্দে পড়লে যেমন বগা কান্দে বিএনপিরও এখন সেই দশা। বিএনপি এখন সরকারকে অনুরোধ করছে আমাদের সাথে একটু বসুন, কথা বলুন।
তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় থাকলেও ষড়যন্ত্রে এগিয়ে আছে। তাই তাদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য আমি আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির প্রতি অনুরোধ জানাব।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রখ্যাত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন অরুণ সরকার রানা, এমএ করিম, শাহজাহান সাজু, বলরাম পোদ্দার, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ প্রমুখ।