কুমিল্লার একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করায় প্রধান শিক্ষক, তিন সিনিয়র শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের এক সদস্যসহ পাঁচজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন একই বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আবদুল করিম মজুমদারসহ তার সঙ্গীয় বহিরাগত লোকজন।
জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কালির বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে রবিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জনসহ ১৫ জনের স্বাক্ষরে ওই সদস্যের বিরুদ্ধে বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট এবং সন্ধ্যায় প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে জানা যায়, রবিবার বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আবদুল করিম মজুমদার বহিরাগত এক শিক্ষার্থীকে ১০ম শ্রেণিতে ভর্তির করানোর জন্য বহিরাগত আরও তিনজন লোক সঙ্গে নিয়ে প্রধান শিক্ষকের উপর চাপ সৃষ্টি করেন। এসময় শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি ছাড়া ওই শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ নেই বলে জানালে ওই সদস্য প্রধান শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ভর্তির সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।
এতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আবুল বাসার, আবুল খায়ের পাটোয়ারী, মাসুম মজুমদার ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য দেলোয়ার হোসেন মজুমদার প্রতিবাদ জানালে তাদেরকেও গালমন্দসহ লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেন এবং সকল শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অপর সদস্যরা বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দাখিল করেন। তারা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিযুক্ত সদস্য আবদুল করিম মজুমদারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা পর্যন্ত ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রোশন আলম চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিযুক্ত সদস্য আবদুল করিম মজুমদারের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অভিযোগ দাখিল করেছি।
এ বিষয়ে জানার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অভিযুক্ত সদস্য আবদুল করিম মজুমদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ জানান, অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ