বরেন্দ্র অঞ্চলে গত এক দশকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ৭০ ফুট নিচে নেমে গেছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পানির স্তর সামান্য কিছু ওপরে উঠে আসলেও শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির স্তর তড়িত্ গতিতে আবার নিচে নামতে থাকে। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও শুষ্ক মওসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলের হাজার হাজার অগভীর টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়েছে। এতে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
গোদাগাড়ী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী অসিত কুমার কর্মকার জানিয়েছেন, উপজেলায় ২০০৫ সালের জুন মাসে পানির স্তর ছিল মাটির ৪০ ফুট গভীরে। ২০০৬ সালে ৪৬ ফুট, ২০০৭ সালে ৪৯ ফুট, ২০০৮ সালে ৫৩ দশমিক ৭ ফুট, ২০০৯ সালে ৫৪ দশমিক ৯ ফুট, ২০১০ সালে ৬২ দশমিক ১ ফুট, ২০১১ সালে ৬১ ফুট, ২০১২ সালে ৭৫ ফুট, ২০১৩ সালে ৮৫ দশমিক ৮ ফুট এবং গত বছরের জুন মাসে গোদাগাড়ীতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ছিল মাটির ৯৬ দশমিক ৪ ফুট গভীরে। বর্তমানে গোদাগাড়ীর বিভিন্ন এলাকা ভেদে পানির স্তর রয়েছে মাটির ১১০-১১৫ ফুট গভীরে। অর্থাত্ এক দশকে পানির স্তর প্রায় ৭০ ফুট নিচে নেমেছে। অসিত কুমার কর্মকার আরো জানান, গোদাগাড়ী সদর, পাকড়ি, রিশিকুল, দেওপাড়া ও বাসুদেবপুর ইউনিয়নে তুলনামূলক পানির স্তর সবচেয়ে বেশি নিচে। তবে পানির স্তর সবচেয়ে বেশি ওপরে রয়েছে চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নে। পদ্মার কোল ঘেঁষা বিচ্ছিন্ন এই চরে মাটির মাত্র ৪০ ফুট নিচেই ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর পাওয়া যায়। এদিকে পানির স্তর প্রতিনিয়ত নিচে নেমে যাওয়ায় গোদাগাড়ীতে এখন আর কোনো অগভীর টিউবওয়েল দিয়ে পানি উঠছে না। গোদাগাড়ীর প্রায় ১০ হাজার অগভীর টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।