ভারতীয় দল কেন যেন কুচকুচে কালো একটা অনুশীলন পোশাক নির্বাচন করেছে। এই ভয়াবহ রোদে সেই কালো পোশাক পরে ঠিক দুপুরবেলায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে নেমে গেলো বিরাট কোহলির দল। সকালেই একটি ভারতীয় বিমানে চড়ে ঢাকায় পৌঁছেছে এক টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সফরে আসা এই দলটি। বাংলাদেশে রওনা দেয়ার আগের রাতে কলকাতায় ভারতীয় দলকে দীর্ঘদিন পর বোর্ড সভাপতি নৈশভোজে আপ্যায়িত করেন। ব্যতিক্রম ঘটিয়েই অধিনায়ক ছাড়াও ছয় ক্রিকেটারকে পাঠানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সবমিলিয়ে জগমোহন ডালমিয়া ক্রিকেটারদেরও নানাভাবেই বুঝিয়ে দিতে চাইছেন, এই সফরটা আসলেই তাদের কাছে মৈত্রী বন্ধন পুনঃস্থাপন করার মতো ব্যাপার। যার প্রমাণ হিসেবে ভারতীয় দল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে উপহারের ডালি নিয়ে। ভারতীয় একটি পত্রিকা জানাচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য গীতাঞ্জলি ও শাড়ি পাঠিয়েছেন বোর্ড সভাপতি। এছাড়া বোর্ডের সব গুরুত্বপূর্ণ সদস্যর জন্য ও পরিবারের জন্য আছে ক্রিকেট দলের হাতে উপহার। এমনকি বহুল আলোচিত সাবেক আইসিসি ও বিসিবি সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামালের স্ত্রীর জন্যও শাড়ি পাঠিয়েছেন ডালমিয়া।
উদ্দেশ্য পরিষ্কার, ভারত-বাংলাদেশ সর্বশেষ সাক্ষাতে, বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে যেসব ঘটনা ঘটেছে এবং তার জের ধরে যে মহা ওলট-পালট হয়েছে, তার চিহ্নমাত্র যেন আর না থাকে। সে সময় আইসিসি চেয়ারম্যান এন শ্রীনিবাসনের সমালোচনা করায় সভাপতি মোস্তফা কামালকে অগঠনতান্ত্রিকভাবে বাদ দিয়ে চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি দিয়েছিলেন শ্রীনিবাসন। এর জের ধরে পদত্যাগ করেন কামাল। আর একটা পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কই নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু ভারতের নতুন সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোনো মিত্রতা আবার স্থাপন করতে যা যা করার সবই করছেন। সেই মোস্তফা কামালকে বিশেষ নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আইপিএল ফাইনালেও। আর এসবেরই পরিণতি হিসেবে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে ঢাকায় পা রেখেছে ভারতীয় দল। দলটি পূর্ণ শক্তির হলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের টেস্টের অভিজ্ঞতা কিন্তু খুবই কম।
বাংলাদেশের ১৫ বছরের টেস্ট ইতিহাসে সাদা পোশাকে দু’দল ম্যাচই খেলেছে মাত্র সাতটি। তাও সবকটিই বাংলাদেশের মাটিতে। যার মধ্যে ৬টি ম্যাচই একতরফাভাবে জিতেছে ভারত। তিনটি আবার ইনিংস ব্যবধানে। একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সেখানে প্রকৃতির আশীর্বাদ ছিল। টেস্টে দু’দলের শেষ সাক্ষাত্ ২০১০ সালে। মিরপুরে ম্যাচটি ভারত জিতেছিল ১০ উইকেটে।
পাঁচ বছর পর আবারও বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে সাক্ষাত্ হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। অভিজ্ঞতা, শক্তির ব্যারোমিটারে এবারও ভারতই একমাত্র টেস্ট ম্যাচে ফেভারিটের স্থানটা পাচ্ছে। দু’দলের অতীত পরিসংখ্যান তো শুধুই বিরাট কোহলির দলের জন্য সুখস্মৃতির অবলম্বন। তবে পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ বুলিয়ে বেশ চমকপ্রদ তথ্যও মিলছে দু’দেশের টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে। তা অবশ্য শুধুই এই সিরিজের আগে। সেই চমকের উত্স আবার ভারতীয় দল। বর্তমান ভারতীয় টেস্ট দলের মাত্র তিনজন ক্রিকেটার এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছেন। সেই তিনজন হলেন: অভিজ্ঞ অফ স্পিনার হরভজন সিং, ওপেনার মুরালি বিজয় ও পেসার ইশান্ত শর্মা। ভারতীয় অধিনায়ক কোহলিসহ দলের বাকি ১১ সদস্যের কারোই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই।