জঙ্গি সংগঠন শহীদ হামজা ব্রিগেডের সামরিক শাখা হোয়াইট গ্রুপের প্রধান খালেদ হাসান রাকিব (২২) চট্টগ্রামে র্যাবের হাতে ধরা পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে চট্টগ্রাম রেল স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-৭-এর একটি দল। রাকিবকে ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকালই আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত রাকিব চাঁদপুর জেলার সদর থানার ফরক্কাবাদ গ্রামের মো. ওবায়দুল গনির পুত্র। রাকিবসহ গতকাল পর্যন্ত হামজা ব্রিগেডের ২৯ জন সদস্য ধরা পড়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে। ফলে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে দুর্ধর্ষ এই জঙ্গি সংগঠনের নেটওয়ার্ক, এমনটাই দাবি র্যাব কর্মকর্তাদের।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. সোহেল মাহমুদ ইত্তেফাককে জানান, গ্রেফতারকৃত রাকিব বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে হামজা ব্রিগেডের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সামরিক প্রশিক্ষক ছিলেন। তিনি আধুনিক অস্ত্র চালনা ও প্রশিক্ষণে খুবই পারদর্শী। গত ২২ ফেব্রুয়ারি লটমনি পাহাড়ের ওই ক্যাম্পে র্যাবের অভিযানে বিপুল অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ ৫ জঙ্গি ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় বাঁশখালী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় রাকিবকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, রাকিব এই সংগঠনের প্রভাবশালী একজন নেতা। তিনি সামরিক শাখা হোয়াইট গ্রুপের প্রধান। এই গোষ্ঠীর অপর দুটি শাখা হলো দাওয়াত ও মিডিয়া শাখা। রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বাকি নেতাদেরও গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান ।
র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, সম্প্র্রতি শহীদ হামজা ব্রিগেড নামে নতুন এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সন্ধান পায় র্যাব। বাংলাদেশে ইসলামী শাসন কায়েম এবং প্রতিবেশী মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এই গোষ্ঠীর প্রধান লক্ষ্য। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে চট্টগ্রামের ফয়’স লেক এলাকার একটি হোটেলে গোপন বৈঠকের মধ্য দিয়ে হামজা ব্রিগেডের যাত্রা শুরু। বর্তমানে গ্রিন, ব্লু ও হোয়াইট এই তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়ে এই সংগঠনটি কাজ করছে। প্রতিটি শাখায় ৭ জন করে সদস্য রয়েছে। হামজা ব্রিগেডের সদস্যরা মূলত ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃৃত সদস্য। সংগঠনের বর্তমান নমনীয় ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে বেশ কিছু সংখ্যক শিবির নেতাকর্মী হামজা ব্রিগেডে যোগ দিয়েছে। এই ব্রিগেডের সাথে কওমী মাদ্রাসা নামধারী কিছু সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র রয়েছে বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানান। তথাকথিত এসব মাদ্রাসা ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ চালিয়ে আসছে বলে র্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে।
র্যাব জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সদস্য সংগ্রহ করে হামজা ব্রিগেড। এরপর এদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন দেশে মুসলিম নির্যাতনের ভিডিও চিত্র দেখিয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতিহিংসা-পরায়ণ ও জেহাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা হয়। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসা লক্ষ করা হয় তাদেরই সদস্য করা হয়।